বেড়েই চলেছে আমগাছে ‘মিলিবাগ’ পোকার আক্রমণ, প্রতিরোধে করণীয়

প্রকাশিতঃ ১:৪০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ২৪ মার্চ ২০

মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সজল, শেকৃবি : রাজধানীসহ সারাদেশের ১০ টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ‘মিলিবাগ’ নামক একধরনের সাদা রঙের পোকা। এ পোকা সাধারণত আমগাছে আক্রমণ করে। আক্রমণের ফলে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি গাছ মরেও যেতে পারে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল গবেষক এ তথ্য জানিয়েছেন। আক্রান্ত জেলাগুলোতে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকগণ। না হলে আম উৎপাদনে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

২০০৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম এ পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও ২০১৪ সালে রাজধানীতে এ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্নতা তৈরি হয়। তখন থেকেই কীটতত্ত্ববিদরা সতর্ক করেছিলেন যে বাংলাদেশে এ পোকার বিস্তার ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদলটির প্রধান কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ সময় জার্নালকে বলেন, এই পোকা ‘জায়ান্ট মিলিবাগ’ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশে এটি ২০০৩ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রথম দেখা যায়। পরে একই বছরে এটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও দেখা যায়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, জামালপুর, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও লালমনিরহাট জেলার আম, কাঁঠাল, মাল্টা, পেয়ারা, লিচু, ডালিম, নারিকেল, আতা, লেবু, বকুল ও মেহগনিগাছে এই পোকার আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়েছে। গবেষকদলের এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ড. লতিফ আরও জানান, মিলিবাগের জীবনচক্র সম্পন্ন হতে এক বছর লাগে। পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী পোকা এপ্রিল মাসে মাটির নিচে আবর্জনার ভেতরে তুলার মতো থলে তৈরি করে তাতে ডিম পাড়ে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে এই ডিম ফুটে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয় এবং খাবারের খোঁজে গাছের কচি অংশে আক্রমণ করে। এই পোকার জীবনচক্রের ডিম, নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ পোকা নামের তিনটি পর্যায়ের মধ্যে নিম্ফ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। স্ত্রী নিম্ফ সরাসরি গাছের ক্ষতি করে থাকে। নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ মিলিবাগ গাছের কচি শাখা-প্রশাখা, পাতা ও ফলের বোঁটা থেকে রস চুষে খাওয়ায় এসব অংশসহ পুষ্পমঞ্জরি, ফল শুকিয়ে ঝরে পড়ে। এতে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়। আক্রমণ প্রকট হলে গাছটি মারা যায়। এছাড়া এর দেহ থেকে পাতায় মধুরস নিঃসরণের ফলে ‘সুটি মোল্ড’ জন্মায়। এর ফলে সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হওয়ার মাধ্যমে খাদ্যঘাটতি দেখা দেয়। তবে এই পোকা মানুষের কোনো ক্ষতি করে না।

এই পোকা দমনের জন্য এর জীবনচক্রের তিনটি পার্যায়েই নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদরা। তারা জানান, এপ্রিল মাসে পূর্ণাঙ্গ পোকা গাছ থেকে মাটিতে নেমে আসে। এ সময় গাছের গোড়ায় পলিথিন পেঁচিয়ে ওপরের অংশ খুলে রাখতে হবে। পোকা জমা হলে সেগুলো পুড়িয়ে কিংবা কেরোসিন মিশিয়ে মাটির এক মিটার গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে। এছাড়া ডিম নষ্ট করার জন্য মে-জুন মাসে গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে রোদে শুকাতে হবে। নিম্ফের গাছে ওঠা প্রতিরোধ করতে মাটি থেকে এক মিটার উঁচুতে গাছে আঠালো পদার্থ বা রাবার ব্যান্ড পেঁচিয়ে দিতে হবে। এছাড়া গাছের গোড়ায় নালা তৈরি করে কেরোসিন ব্যবহার ফলদায়ক হতে পারে।

কীটনাশক ব্যবহার প্রসঙ্গে গবেষকরা বলেন, এই পোকা নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই নিম্ফ পর্যায়ে প্রয়োগ করতে হবে। পূর্ণাঙ্গ পোকার দেহ সাদা মোমজাতীয় পদার্থে আবৃত থাকায় কীটনাশক কার্যকর হয় না। একমাত্র পুড়িয়ে বা মাটিতে পুঁতে ফেলার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মিলিবাগ দমন করা যায়।

সময় জার্নাল/আরইউটি/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ