ব্যাপকভাবে মশার ওষুধ ছিটানোর সামর্থ্য চসিকের নেই

প্রকাশিতঃ ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ, বুধ, ৪ ডিসেম্বর ১৯

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, ‘নগরীতে ব্যাপকভাবে মশার ওষুধ ছিটানোর সামর্থ্য চসিকের নেই। এটি খুব বেশি এক্সপেন্সিভ (ব্যয়বহুল)। এছাড়া বাসাবাড়িতে ওষুধে ছিটানো সবাই পছন্দও করে না।’ মঙ্গলবার সিটি কর্পোরেশনের কেবি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে ‘চসিকের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মেয়রের বাড়িতে মশা নিধনের ওষুধ ছিটাতে দেয়া হয়নি কেন- এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়িতে এডিশ মশার ওষুধ ছিটাতে দেয়া হয়নি। কারণ বাড়িতে আমার চাচাতো ভাইয়ের নবজাতক সন্তান ছিল। এর মাধ্যমে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করা হয়েছিল।’

মেয়র বলেন, ‘এভাবে যদি নগরবাসী সচেতন না হয়, তবে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে একা ডেঙ্গু মোকাবিলা সম্ভব নয়।’

নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারি না। নগরের ময়লা পরিষ্কার করার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কে ময়লা পরিষ্কার করবে, কখন করবে সব। অথচ নাগরিকরা যদি পরিচ্ছন্নতাকর্মী চলে যাওয়ার পরে রাস্তায় ময়লা ফেলে যায়, আর সে জন্য সিটি কর্পোরেশনকে গালি দেয়া হয়, তাহলে গালি শোনা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’

ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদারদের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন চসিক মেয়র। বলেন, ‘নিউমার্কেট মোড়ে হকারদের কয় বার উচ্ছেদ করবো? এক্ষেত্রে ক্রেতাদেরও দায়বদ্ধতা আছে। আমাদের মাত্র একজন ম্যাজিস্ট্রেট, তিনি কয় দিকে যাবেন? তাই সব সময় অভিযান চালাতে পারেন না। এছাড়া আমরা চাইলেই অভিযান চালাতে পারি না। কারণ অভিযানে পুলিশ লাগে। সব সময় পুলিশ পাওয়া যায় না।’

মেয়র আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরে সেবা প্রদানকারী সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রমে সিটি কর্পোরেশন থেকে আমরা সার্বিক সহায়তা দিয়ে আসছি। এছাড়া নগরের উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মাধ্যমে করে আসছিম যার মধ্যে রয়েছে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ এবং মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজস্ব অর্থায়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করাসহ দীর্ঘ মেয়াদী কিছু প্রকল্প।’

তিনি আরও জানান, ‘বিগত সময়ে নগরের ১ হাজার ৩৭৫টি খোলা ডাস্টবিন থেকে ৮২৫টি অপসারণ করা হয়েছে। নগরবাসীর সংখ্যা বেড়েছে, বর্জ্য বেড়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দিনের বেলা থেকে রাতে বর্জ্য অপসারণ করছি। আমরা ৯ লাখ বিন বিতরণ করেছি। ১৯৭২ জন পরিচ্ছন্ন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছি।’

বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন খাল খননের কাজ চলছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘১২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ ফুট প্রস্থ এ খাল খনন শেষ হলে নগরের বহদ্দারহাট, শুলকবহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। খালের দুই পাশে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা তৈরি করা হবে। নগরবাসী এই খালের পারে এসে নিতে পারবেন স্বস্তির নিঃশ্বাস।’

মেয়র বলেন, ‘বিমানবন্দর সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এখানে বন্দরের জমি লিজ নিয়ে অনেক জ্বালানি স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে, যা সরানো কঠিন কাজ। সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত দুই পাশে ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে। জাইকার অর্থায়ন ও ডিজাইনে হচ্ছে পোর্ট কানেকটিং ও এক্সেস রোডের কাজ। নিমতলা থেকে অলংকার পর্যন্ত ৬ দশমিক ২ কিমি পোর্ট কানেকটিং সড়ক। এক্সেস রোডের কাজে এলইডি লাইটিং অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরাকান সড়কের কাজ ১২টি লটে চলমান আছে। কম সময়ে ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হবে।’

তিনি জানান, ‘নগরের ৮০ ভাগ সড়ককে আলোকায়নের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ৩০৪ কিলোমিটার সড়কে ৬৪ হাজার ৬৮৩টি এলইডি বাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

কাজীর দেউড়ি শিশুপার্ক প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘সেনাবাহিনী জায়গাটি শিশুপার্ক করার জন্য চসিককে দিয়েছিল। শিশুপার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চসিকের চুক্তিটা নবায়নযোগ্য। তাদের আধুনিক রাইডের শর্ত দিয়েছি। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তারা আধুনিক রাইড সংগ্রহ করছে।’

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ