দুলালের সৎকার
ভারতে না বাংলাদেশে?

প্রকাশিতঃ ৪:১৭ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ১৭ অক্টোবর ১৯

নিউজ ডেস্ক: গত রোববার ভারতের আসামের গোয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে বিপাকে পড়েছে গোটা রাজ্য।

দুলাল পাল নামে ওই ব্যক্তির লাশ নিয়ে প্রশাসন ও তার পরিবারের টানাপোড়েনে চার দিন ধরে অচলাবস্থা চলছে সেখানে। তার লাশ নিতে চাইছে না পরিবার। এর পেছনে একটি দাবি তুলেছেন তারা।

সে দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।

এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি আসামের জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধনে (এনআরসি) বাদ পড়েছেন গোয়াহাটি হাসপাতালে মারা যাওয়া সেই ব্যক্তি। যে কারণে তিনি এখন ভারতে অবস্থানকারী একজন বিদেশি নাগরিক। ‘বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তেজপুরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছিল এ ব্যক্তিকে।

সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি আরও জানায়, গত ১১ অক্টোবর তেজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (টিএমসিএইচ) ডায়াবেটিস ও মানসিক সমস্যার চিকিৎসা দেয়া হয় দুলাল পালকে। চিকিৎসা শেষে ওই দিনই তাকে ডিটেনশন সেন্টারে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গোয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। রোববার সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দুলাল।

দুলালের পরিবারে বলছে, দুলাল চন্দ্র পাল অবশ্যই ভারতীয় নাগারিক। সোনিতপুর জেলার আলিসিঙ্গা গ্রামে ৬৫ বছর ধরে বসবাস করছেন তিনি। দুলাল মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। ২০১৭ সালে তাকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করে আসাম সরকার। অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাকে তেজপুরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

পরিবারের স্বজনদের দাবি, ভারতীয় নাগরিক ঘোষণা না করা পর্যন্ত দুলাল চন্দ্রের লাশ নেবেন না তারা। আর এ দাবিতে সহমত জানিয়ে হাজার হাজার মানুষ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।

দুলাল পালের বড় ছেলে আশীষ বলছেন, সরকারি তালিকায় বাবাকে ভারতীয় নাগরিক নন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন তার লাশ আমরা কীভাবে আসামের ভূমিতে সৎকার করব? তারা কি এখন বাবার লাশ বাংলাদেশে পাঠাবে?

দুলাল পাল খাঁটি ভারতীয় জানিয়ে তিনি বলেন, আমার বাবাকে এনআরসিতে স্থান দিলেই আমরা লাশ গ্রহণ করব।

এ বিষয়ে সরকার পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত হয়েছে কিনা প্রশ্নে আশীষ বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ বাবার ঠিকানা খুব ভালোভাবে জানে। তাই গ্রামে লাশ নিয়ে আসে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে পাওয়া ঠিকানার ঘর ফাঁকা দেখেছি। আমরা ধারণা করছি, তারা বাংলাদেশের কোনো মনগড়া ঠিকানা দিয়ে দিতে পারে সেই ফাঁকা স্থানে।

এ ঘটনায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই পরিবার ও গ্রামবাসী বিক্ষোভ করছেন। তারা তাদের দাবিতে অটল রয়েছেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই পরিবারের কাছে গত চার দিনে বেশ কয়েকটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে আসাম সরকার।

গোয়াহাটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবারের ওই দাবির পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ