ভারপ্রাপ্তদের কাঁধে ভর দিয়ে চলছে চবি প্রশাসন

প্রকাশিতঃ ৯:৪২ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ২৩ জুলাই ১৯

নিউজ ডেস্ক: ভারপ্রাপ্তদের কাঁধে ভর দিয়ে চলছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কর্তাব্যক্তি উপাচার্য (ভিসি) পদসহ দুই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ পদ রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্তরাই।

সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন চবি উপাচার্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয় প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর। এর একদিন আগে ১৩ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব হাবিবুর রহমানের সই করা এক অফিস আদেশে উপাচার্য পদে রুটিন দায়িত্ব পান উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

উপাচার্য পদে উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার এক মাস পার হতে চললেও তাকে এ পদে স্থায়ী কিংবা নতুন কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়নি সরকার। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ও অতি গুরুত্বপূর্ণ এ পদের কেবল রুটিন দায়িত্বগুলোই পালন করছেন উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

গত বছরের ১ এপ্রিল ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের পদ থেকে প্রফেসর ড. কামরুল হুদাকে অব্যাহতি দেন তৎকালীন উপাচার্য। এ পদে ফের ভারপ্রাপ্ত হিসেবেই নিয়োগ দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ডেপুটি রেজিস্ট্রার কেএম নুর আহমদকে। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৮৫ সালের পর থেকে গত ৩৪ বছরে চবি রেজিস্ট্রার হিসেবে মোট ১০জন দায়িত্ব পালন করেছেন। যাদের প্রত্যেককেই এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত হিসেবেই। বিভিন্ন সময়ে উপাচার্যরা তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবেই এ পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

গত ১৭ জুন চবি প্রক্টর হিসেবে মেয়াদ শেষ হয় প্রফেসর আলী আজগর চৌধুরীর। একই দিন এ পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পান জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী। পরবর্তী প্রক্টর নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ নির্দেশনার ১ মাস পার হতে চললেও এ পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

শুধু উপাচার্য, রেজিস্ট্রার কিংবা প্রক্টর পদ নয়- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, কলেজ পরিদর্শক, গ্রন্থাগারিক, হিসাব নিয়ামক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের প্রধান, চিফ মেডিকেল অফিসার, শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক, নিরাপত্তা দফতরের প্রধানসহ প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক অন্তত ১২টি দফতরের প্রধান পদে ‘রাজত্ব’ করছেন ভারপ্রাপ্তরাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত হিসেবে যারা নিয়োগ পান, তারা স্বাধীনভাবে কোনো কাজ করতে পারেন না। যে পদের জন্য তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ পান, সে পদের রুটিন দায়িত্বগুলোই কেবল পালন করেন। ফলে ব্যাহত হয় সৃষ্টিশীল কাজ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিশ্ববিদ্যালয়।

তারা বলেন, সাধারণত একজন শিক্ষক বা কর্মকর্তা যে পদে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পান, সে পদে দায়িত্ব পালন ছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে অন্য কোনো পদে তাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একজন ব্যক্তি একাধিক দায়িত্ব পালনের ফলে সৃষ্টি হয় প্রশাসনিক জটিলতার।

জানতে চাইলে চটগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে রুটিন দায়িত্ব পাওয়া প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, সরকার উপাচার্য হিসেবে রুটিন দায়িত্ব পালনের যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছি। উপাচার্য পদে পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়োগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বিধি অনুযায়ী স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হবে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ