মাদকের বিরুদ্ধে তরুণদের সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান

প্রকাশিতঃ ৩:২৯ অপরাহ্ণ, রবি, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের প্রধান টার্গেট তরুণ সমাজ। আমাদের ভরসাও সেই তরুণরাই। তিনি বলেন, মাদকের আগ্রাসন আমাদের অনেক অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এজন্য মাদক নামক দৈত্যের আগ্রাসন থেকে সমাজ, রাষ্ট্র ও পরিবারকে রক্ষা করতে তরুণ সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ।

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত “মাদককে রুখবো আজ, গড়বো সুন্দর সমাজ” শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও দ্যা বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশন আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক এমপি ও বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট নূর মুহাম্মদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির পরিচালক মু. নুরুজ্জামান শরীফ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ম. কামরুল হাসান, দ্যা বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা খবির উদ্দিন আহমেদ ও সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং মহিউদ্দিন হেলাল।

জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক আগ্রাসনকে কিভাবে রুখতে হবে, সেটা তরুণদেরকে শিখিয়ে দেয়ার কিছুই নেই। তারা জানে কি করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে এদেশের হাজার হাজার তরুণ-যুবক মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে তারা দেশকে স্বাধীন করেন। একইভাবে আমাদের বর্তমান তরুণ-সমাজ দেশকে মাদকমুক্ত করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। মাদকের কাছে আগামীর বাংলাদেশ জিম্মি থাকতে পারে না বলে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মাদকবিরোধী জনমত গড়তে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১০ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবী স্কোয়াড গড়ে তোলা হবে। যাদের মূল স্লোগান হবে- আমার ঘরে মাদক ঢুকতে দেবো না। পাশের কারো ঘরেও মাদক থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, মাদকরোধ করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একার পক্ষে সম্ভব নয়। একাজে সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ সরকার। এটা সফল করতে হলে অবশ্যই তরুণ সমাজকে মাদকের আগ্রান থেকে দূরে রাখতে হবে।

খারাপ বন্ধুদের স্পর্শে গিয়ে তরুণরা মাদকে জড়িয়ে পড়ে। তাই উঠতি বয়সের সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে- এ বিষয়ে কড়া নজর রাখতে বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের নজর রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দিনব্যাপী কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক আলোচক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার কৃঞ্চা রুপা মজুমদার, কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের আবাসিক মনোচিকিৎসক ডা. রাহানুল ইসলাম, কবি ও গবেষক ইমরান মাহফুজ, ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ কে এম হাসান রিপন, বিশিষ্ট টিভি ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক নাদিম কাদির ও হাসিবুল ইসলাম।

কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্যাম্পাস ভিত্তিক মাদকবিরোধী আন্দোলনের মূখ্য সমন্বয়কারী ও দ্যা বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম রলি ও জয়েন্ট সেক্রেটারী ইরফান আহমেদ। আরো উপস্থিত রয়েছেন সংগঠনটির কালচারাল এন্ড পাবলিকেশন্স সেক্রেটারি শিরীনা বিথী।

কর্মশালায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচিত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ