‘মাদক’ ব্যবসা-মার্কেট’ দখল শাহবাগ থানা আ’লীগ সভাপতির নেশা

প্রকাশিতঃ ২:৪৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ৮ অক্টোবর ১৯

নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কিংবা সচিবালয়ের মত প্রতিষ্ঠান আছে যে থানা এলাকার গুরুত্ব বলে বোঝানোর কিছু নেই। সেই স্থানের শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগ সভাপতির নামে বিস্তর অভিযোগ। পুরো এলাকা ঘুরে মাদক আর মার্কেট দখল যেনো তার নামের সমার্থক। তবে নিজের নামে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি জিএম আতিকুর রহমানের নামে একাধিক মার্কেটের জোরজবরদস্তি পদ দখল, দোকানে তালা দিয়ে বিপুল টাকায় রফা করা, পুরো এলাকা জুড়ে চাঁদাবাজি আর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ আনন্দবাজার মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা চামেলীর স্বামী আবুল হোসেন টাপু যিনি বর্তমানে ২০ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক তার মাধ্যমে অবাধে মাদক ব্যবসা করে চলেছেন আনন্দবাজার রেলওয়ে মার্কেটে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জি এম আতিকুর রহমান বলেন, এ সব আমার নামে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা অভিযোগ।

টাপুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি আমাদের আওয়ামী লীগের নেত্রীর স্বামী। সেই সুত্রে পরিচয় আছে। আর কিছু নয়।

যতদূর তথ্য মেলে, তাতে কমপক্ষে ১৫টি মার্কেটের বিভন্ন পদে আছেন জিএম আতিক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকা ট্রেড সন্টার (সহ সভাপতি), গুলিস্তান হকার্স মার্কেট (পোড়া মার্কেট) সভাপতি, রেলওয়ে সুপার মার্কেট (সহ সভাপতি), খদ্দের মার্কেট (সভাপতি), পীর ইয়ামেনী মার্কেট (সহসভাপতি)। সবগুলো মার্কেটে অভিযোগ রয়েছ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দোকান বন্ধ করে দিয়ে বড় অংকের টাকার মাধ্যমে দোকানের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা ট্রেড সেন্টার এর ৬৬৬ টি দোকান প্রতি দোকান থেকে সে ৯/১০ লক্ষ টাকা করে চাঁদা ওঠে। তার সাথে আছে মার্কেট সেক্রেটারি নাজমুল, বি,এন,পি নেতা মুজু, জহির। পোড়া মার্কেটের প্রতি দোকান থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে চাঁদা নেয় আতিক বাহিনী। এই মার্কেটের দোকান সংখ্যা ৪১৪ টি। এই মার্কেটে তার সাথে আছে ২০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মনোয়ার হোসেন মনু ও সহা সভাপতি আনিছ । নগর ভবনের পিছনের মার্কেট থেকে শাহবাগ থানা সভাপতির প্রশ্রয়ে দেলু, জামাল প্রতি দোকান থেকে তালা মেরে অন্যায় ভাবে ১০/১৫ লক্ষ টাকা চাঁদা নিচ্ছে। এই মার্কেটের দোকান সংখ্যা ৯৬৬ টি।

ক্যাসিনো কেলেংকারীতে আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব থেকে প্রতি মাসে ৩ লক্ষ টাকা করে চাঁদা যেতো শাহবাগ থানা সভাপতি জি এম আতিকের কাছে। বঙ্গবাজার মার্কেট গুলোতে কমিটিতে নিয়ন্ত্রন রয়েছে এই আতিকের, প্রতিটি মার্কেট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অল্পকিছুদিন আগে আওয়ামিলীগের পার্টি অফিসের সামনের মার্কেটে ৪৪ টি দোকানে তালা মেরে ব্যবসায়িদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করে এই আতিক।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, দলের কাছে এ বিষয়ক অভিযোগ করলে তার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করবো আমরা। কিন্তু কোনো অভিযোগ পাইনি আমরা।’ আপনারা ক্ষমতায় কেউ কি অভিযোগ করার সাহস দেখাবে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ না করে স্থানীয় থানাতেওতো অভিযোগ করতে পারে। তবে কেউ অভিযোগ যদি আমাদের কাছে করে তবে ঘটনা সত্য হলে আমরা ব্যভস্থা নেবো এ কথা দিচ্ছি।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, চাঁদাবাজি-মাদকের বেশ কিছু অভিযোগ আমাদের থানায় থাকলেও নির্দিষ্ট কারো নামে নেই। আর এ ধরণের অভিযোগ নির্দিষ্ট কারো নামে আসলে সে যেইহোন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ