মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমন্বয়ের হুসিয়ার দিন

প্রকাশিতঃ ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ, শুক্র, ১০ এপ্রিল ২০

প্রশান্ত কুমার কর্মকার : করোনার প্রার্দুভাবে সরকারি হাসপাতাল গুলোর কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ছে। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোর ব্যবসা কার্যত প্রায় বন্ধ। যে ওষধ কোম্পানীগুলো চিকিৎসকদের বিভিন্ন প্রণোদনা দিতেন। সেই প্রণোদনা বা উপহারের পরিবর্তে কোম্পানীগুলো চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য বা হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিরাপত্তা আসা যাওয়ার জন্য পিপিই ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবস্থা করতে পারতেন। ব্যবসায়িক স্বার্থেও এটি করা হলে, সাধারন মানুষ উপকার পেতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রকে খোদ রাজধানীতেই করোনা সন্দেহে চিকিৎসা না পেয়ে মরতে হতো না। গণমাধ্যমে শিরোনাম হতো না কোন শিক্ষক, দিনমজুর, কারো সন্তান, মা-বোন করোনা সন্দেহে বিনা চিকিৎসা মারা গেলেন। করোনা সন্দেহে বিনা চিকিৎসা মারা যাওয়া এই নিয়ে চিকিৎসকদের গালাগালি করাও হচ্ছে। দেশের সরকারি চিকিৎসকরাই প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোতে প্র্যাকইটিস করে থাকেন।

পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, সেনা-বাহিনার গাড়ী আছে। চিকিৎসকের তা নেই। জাতীর এই র্দুদিনে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবানু সংক্রমন সুরক্ষাকারী পিপিই, নিরাপদ যাতায়তের ব্যবস্থা সুগম করা প্রয়োজন। বৈশ্বয়িক করোনা ভাইরাসের প্রভাব বাংলাদেশে ক্রমশই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। তাই শুধু রাজধানী নয়, রাজধানীর বাইরে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে সাধারন চিকিৎসা সেবা অব্যহত রাখতে হবে। তা না হলে, ভয়াবহ বিপর্জয়ের মধ্যে পড়বে দেশ। তখন করোনা ভাইরাস শুধু সরকার নির্ধারিত হাসপাতালে নয়, যে আশংকায় চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা দিতে চাচ্ছেন না। করোনা সন্দেহে বিনা চিকিৎসায় মরছে, মানুষ।

এখনই ভাবতে হবে আর যেন কাউকে করোনা সন্দেহে বিনা চিকিৎসায় মরতে না হয়। মৃত দেহের সৎকার করার পর আমাদের শুনতে না হয়, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। বৈশ্বিয়িক কোরোনা ভাইরাস সরাসরি মৃত্যু পরোয়ানা হাতে করে নিয়ে এসেছেন। কোন মরণাস্ত্র নয়, সঙ্গনিরোধই একমাত্র অস্ত্র। মানুষ যত ভ্রমন করবে, এ ভাইরাস তত ছড়াবে।

পুলিশের শাসন, ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা, সেনাবাহিনীর বিনীত অনুরোধ উপেক্ষা করে করোনা ভাইরাস জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। বাড়ছে সংক্রমনের হার, বাড়ছে মৃত্যুর হার। করোনার প্রার্দৃভাব ঠেকাতে মানবসমাজ আজ কোয়ারেন্টিনে-সঙ্গনিরোধ, এলাকায় এলাকায় লক ডাউন। ২৬ মার্চ থেকে মানুষ ঘরবন্দি।

অর্থনীতির চাকা দিনকে দিন মন্থর হয়ে আসছে। ঘরে থাকা চাল, তেল, নুন, আলু পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস শেষ হয়ে আসছে। টাকা আছে, সরবরাহ নেই। মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরছে খাদ্যের অন্নেষনে। সন্তান ক্ষধার জ্বালায় কাঁদছে, চুলা জøছে না, কলে পানি আসছে না। এমটি ভাবতেই অন্ধকার হয়ে আলোর পৃথিবী। বাজারগুলোতে খাদ্য সামগ্রী কেনার ধুম পড়েছে। বিক্রেতার মুখে চির চেনা ঈদের হাসি। তা দেখে আতঙ্কিত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ক্রেতা-বিক্রেতার হাতে গ্লাভাস, মুখে মাস্ক, শুধু মানছে না সরকারি নির্দেশনা। একেই বলে বুঝি লকডাউন।

আমরা ধর্মপ্রান মানুষ। ইবাদত ও উপসনায় রয়েছে শ্রষ্টার আশীষ পাওয়ার বিশ্বাস। মসজিদ,মন্দিরসহ কোন উপসানালয়গুলোর আশপাশে, অলিগলিতে ঘাতক করোনা ভাইরাস। আপন যে গৃহ, সেও তো শ্রষ্টারই দান। মানুষগুলো আন্ধাচক্করে ঘুরেচ্ছে। তাই নিজ ঘরে ইবাদত ও উপাসনা করার নির্দেশনা দিতে হয়। কেহ এই নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি করা হয়েছে। গোটা বিশ্ব যখন এক কাতারে দাড়িয়ে- তখনো আমরা সম্মন্বয় হীনতার মধ্য দিয়ে চলেছি, মুল্যবান সময় নষ্ট করছি।

মাননীয় নির্দেশনা দিবেন তারপর তারা কাজ শুরু। এই এখন রাজনীতির হালচাল। সরকারী আমলারাও র্নিবোধ হাত-পা ছাড়া মানুষের মত মাথা চুলকাচ্ছেন–কি করা যায়, কি করা যায়, তা ভেবে ভেবেই সময়ের শ্রদ্ধাশান্তি করছেন। এই মুর্হুতে সবচেয় বড় বেশী প্রয়োজন প্রতিটি কাজের সমন্বয়। পরিকল্পিতিভাবে কর্মপন্থা রাষ্ট্রের কাছে উপস্থাপনের বুদ্ধি সম্পন্ন মানুেষর বড় অভাব।

অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসা পাচ্ছে না বলিহারি চিৎকার না করে, আসুন করনীয় কাজগুলো এগিয়ে দেই। চিকিৎসকের দায়িত্ববোধ জাগাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি হয়তো জানেন না, আপনার এই হুশিয়ার কত চিকিৎসকের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। কেননা আমাদের এও মনে রাখা উচিত হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা আছে কিনা। চিকিৎসক-স্বাস্থকর্মীদের যাওয়া-আসার জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে কিনা ? সরকারি চিকিৎসকগন গণ-পরিবহনে কর্মস্থল হাসপাতালে যাওয়া আসা করছেন। ওই চিকিৎসক নিজেও আক্রান্ত হবেন না একথা আমরা কিন্তু হলফ করে তা বলতে পারি না। সংবাদ মাধ্যমগুলোর উচিত করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির কবরের ছবি নয়, তার মৃত্যুতে পরিবারের বির্পযয় কথা প্রচার করা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা বিশ্বাস করতে চাই চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। তারপরও কেন সরকারি হাসপাতালে মানুষকে চিকিৎসা দিতে অনাগ্রহী। তা অনুসন্ধান করার সময়ও এখন হাতে নেই। এখন প্রয়োজন খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি, চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখতে নিরাপদ পরিবহনের ব্যবস্থা গ্রহন করা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনিই ভরসা। বাকী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা তাদের মেধা ও প্রজ্ঞা বৈষ্যয়িক কাজে খরচ করে ফেলেছেন। হঠাৎ নেতা- কি করে বুঝবে ছায়া শ্যামল মাঠে রোদ্দুরের থাকা কৃষক, দিন মুজুরের ঘামের গন্ধ। আপনি দেশ ও জাতির চিন্তা করে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর জম্ম শতবর্ষের অনুষ্ঠান কাঁটছাট করেছেন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোন হুসিয়ারি প্রয়োজন নেই। চাই সম্মিলিত সমন্বয়।

লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট। তাং ০৮/০৪/২০২০ খ্রী।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ