মালয়েশিয়ায় নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু

প্রকাশিতঃ ৬:০০ অপরাহ্ণ, রবি, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০

মাসুম খলিলী :

মালয়েশিয়ায় আজ (রোববার) সকাল থেকে পাকাতান হারাপান সরকারের পরিবর্তে নতুন এক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাহাথির মোহাম্মদ পাকাতান হারাপান থেকে নিজের দল পিপিবিএমকে সরিয়ে নিয়ে পিকেআরের আজমিন গ্রুপ, পাস, উমনু এবং সাবাক-সারওয়াকের ক্ষমতাসীন আঞ্চলিক দলের সমন্বয়ে ‘পাকাতান ন্যাশনাল’ নামে নতুন এক জোট গঠন করতে যাচ্ছেন। এর ফলে ৯৫ বছর বয়সি মাহাথির পুরো ৫ বছর মেয়াদ ক্ষমতায় থাকতে পারবেন বলে আশা করছেন। আর নতুন মেরুকরণের ফলে কেবল মালয় দলগুলোই এখন মালয়েশিয়ার ক্ষমতায় থাকবেন। আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে ২ বছর পর তার কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে যে চুক্তি মাহাথির করেছিলেন এর মাধ্যমে তা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে যাচ্ছেন।

গতকাল শনিবার রাত থেকে মালয়েশিয়ায় মাহাথিরের দলের বৈঠকের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। আজ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পিকেআর ডেপুটি প্রেসিডেন্ট আজমিন আলীর অনুগত সংসদ সদস্যরা পেটালিং জয়ার শেরাটন হোটেল সামনে জড়ো হয়ে সভায় মিলিত হতে যাচ্ছেন। শেরাটন হোটেলে পিকেআর সাংসদরা হলেন, জুরাইদা কামারউদ্দিন (আমপাং), সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ (টেমরলাহ), রশিদ হাসন (বাটু পাহাট), মারিয়া চিন আবদুল্লাহ (পেটালিং জয়া), উইলি মংগিন (বোর্নিও পীক) এবং আর সান্থার কুমার (সেগামাত)।

কুয়ালালামপুরের রিটজ কার্লটনে আজ বিকেলে সরওয়াক পার্টির নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আজ দুপুর তিনটার দিকে উম্নোর সুপ্রিম কাউন্সিলও তার দলীয় সদর দফতরে বৈঠক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাস আগেই মাহাথিরকে পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় রাখার জন্য সংসদে ৯ মার্চ তার পক্ষে এক আস্থা ভোট প্রস্তাব উত্থধাপনের ঘোষণা দিয়েছে।

এই প্রক্রিয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মাহাথির বর্তমান মন্ত্রীসভা ভেঙে দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারেন। এর পর সংসদে আস্থাভোটও আসতে পারে। এই আস্থা ভোটে মাহাথিরের দলের বাইরে আজমিনের পিকেআর গ্রুপ, পাস ও উম্নো এবং সাবাহ সারওয়াকের ক্ষমতাসীন দলের সমর্থন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে । এতে মাহাথির ১১২ জনের বেশি সংসদ সদস্যের সমর্থন পেতে পারেন।

নতুন দলগুলো নিয়ে পাকাতান ন্যাশনাল নামে জোট গঠন করা হতে পারে। নতুন মন্ত্রিসভায় কোন কোন দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে তা এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে,উমনু ও পাস এই মুহূর্তে সরাসরি মন্ত্রিত্ব নাও নিতে পারে।

আনোয়ারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নতুন একটি রাজনৈতিক মেরুকরণের খবর আসছিল বেশ কিছু দিন ধরে। গত শুক্রবার পাকাতান হারাপানের সর্বোচ্চ সভার বৈঠকে ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা এবং মাহাথিরের আগের চুক্তি বাদ দিয়ে ৫ বছর ক্ষমতা থাকা নিয়ে প্রাথমিকভাবে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় যে, নভেম্বরে এপেকের সম্মেলনের পরে মাহাথির ক্ষমতা আনোয়ারের হাতে সমর্পন করবেন। তবে কবে ক্ষমতা ছাড়বেন সেটি মাহাথির ঠিক করবেন।

মাহাথির মোহাম্মদের সর্বশেষ কর্মকান্ডের ব্যাপারে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আগে থেকেই সতর্কবাণী উচ্চারণ করে আসছিলেন। তাদের ধারণা, মাহাথির মৃত্যুর আগে আরেকবার ডিগবাজি খাবেন এবং আনোয়ারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ভিন্ন পথ অবলম্বন করবেন। এ ব্যাপারে দেশটির শীর্ষ ব্লগার রাজা পেত্রা কামারুদ্দিন তার মালয়েশিয়া টুডেতে লিখেছেন,‘মাহাথির এই বছরের মে মাসে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়বেন না। তিনি যতক্ষণ থাকতে চান ততক্ষণ থাকবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন তখন এর অর্থ এই নয় যে আনোয়ারের হাতে তিনি দায়িত্ব দেবেন। আমরা এটি আগেও বলেছি এবং আবার বলব,আনোয়ার যদি পিএম ৮ হতে চান তবে তাকে বাধ্য করেই দায়িত্ব নিতে হবে। যদি তিনি বসে বসে অপেক্ষা করতে চান এবং প্রত্যাশা করেন যে, এই পদটি তাকে রুপোর থালায় এনে দেওয়া হবে, তবে তিনি চিরকাল অপেক্ষা করবেন, ঠিক তেংগু রাজালিঘ হামজা-কু লিকে যেভাবে অপেক্ষা করে করে সময় পার করতে হয়েছিল’।

মালয়েশিয়ায় আজ কাল ও পরশু অনেক রাজনৈতিক নাটক সম্ভবত ঘটতে যাচ্ছে। ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছেন আনোয়ারের পিকেআর, ডিএপি ও আমানাহ পার্টি। রাষ্ট্র পরিচালনায় অমালয়দের কোন ভূমিকা আর থাকবে না। মাহাথিরের পাল্টা কোন পদক্ষেপ এই তিন দল নেবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ