মুসলিম নন বলে নিশ্চিন্ত! মূর্খের স্বর্গে আছেন, পোস্ট সৌরভ-কন্যা সানার

প্রকাশিতঃ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, বুধ, ১৮ ডিসেম্বর ১৯

নিজস্ব কোনও মন্তব্য নয়, সবটাই খুশবন্ত সিংহের লেখা থেকে উদ্ধৃত। ইনস্টাগ্রামে সেই ‘উদ্ধৃতি’ পোস্ট করেই সাড়া ফেলে দিয়েছেন সানা গঙ্গোপাধ্যায়। কারণ, ওই উদ্ধৃতির গোটাটাই  কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারকে কটাক্ষে ঠাসা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে সানা সদ্য আঠেরো পেরিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি তাঁর ইনস্টাগ্রামে ওই পোস্ট করেছেন।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। এ রাজ্যেও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। কোথাও কোথা ছড়িয়েছে অশান্তিও। সেই আবহেই সৌরভ-কন্যার এমন ‘পোস্ট’ রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে।

কী লিখেছেন সানা?

ইনস্টাগ্রাম স্টোরি হিসেবে পোস্ট করতে গিয়ে তিনি ২০০৩ সালে প্রকাশিত খুশবন্ত সিংহের ‘দ্য এন্ড অব ইন্ডিয়া’কে বেছে নিয়েছেন। সানা সেই বই থেকে তুলে ধরেছেন যে অংশ, সেখানে লেখা হয়েছে, ‘‘প্রতিটা ফ্যাসিস্ট সরকারের একটা দল বা গোষ্ঠীর প্রয়োজন হয়। নিজেদের বেড়ে ওঠার জন্য তারা ওই দল বা গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করতে তাদের শয়তানেও পরিণত করে। দু’একটা দল দিয়ে এটা শুরু হয়। কিন্তু সেটা কখনওই সেখানে শেষ হয় না। ঘৃণার উপর নির্ভর করে যে আন্দোলন, সেই আন্দোলন নিজেকে ধরে রাখতে পারে অবিরাম একটা ভয় বা দ্বন্দ্বের বাতাবরণ তৈরি করে।’’

এখানেই থেমে থাকেননি সানা। খুশবন্তের লেখার আরও কিছু অংশ তিনি পোস্ট করেছেন। সেই অংশে লেখা হয়েছে, ‘আজ যারা আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছি, ভাবছি আমরা তো মুসলমান বা খ্রিষ্টান নই, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছি। সঙ্ঘ ইতিমধ্যে বামপন্থী ইতিহাসবিদ এবং পশ্চিমি সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী যুবসমাজকে টার্গেট করেছে। কাল তাদের ঘৃণা গিয়ে পড়বে স্কার্ট পরিহিত নারী, যারা মাংস খান, মদ্যপান করেন, বিদেশি সিনেমা দেখেন, বছর বছর তীর্থে যান না, দাঁতনের পরিবর্তে টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, আয়ুর্বেদিকের বদলে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ পছন্দ করেন, দেখা হলে ‘জয় শ্রী রাম’ বলার বদলে হাত মেলান বা চুম্বন করেন, তাদের ওপর। কেউ নিরাপদ নয়। ভারতকে বাঁচাতে হলে এগুলো আমাদের ভীষণভাবে অনুধাবন করতে হবে।’

নেট দুনিয়ায় ইতিমধ্যে সানার এই পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ইনস্টাগ্রাম পোস্টে যেভাবে খুশবন্তের লেখার মাধ্যমে সানা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলে ধরেছেন, তা প্রশংসনীয়। কেউ কেউ আবার সানার বয়সকে উল্লেখ করে লিখেছেন, রাজনীতি বোঝার জন্য বড়ই অল্প বয়স। সেখানেই অপর পক্ষ মনে করিয়ে দিয়েছে, ভারতে ভোট দেয়ার বয়স কিন্তু ১৮।

সানার বাবা সৌরভ গাঙ্গুলি সব সময়ই রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তার মুখে রাজনৈতিক বিতর্কিত কোনো মন্তব্য কখনও শোনা যায়নি। কিন্তু সানার পোস্টে  রাজনৈতিক বার্তা খুঁজছেন অনেকে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ