মেঘের রাজ্যে পরিদের সাথে কিছুক্ষণ

প্রকাশিতঃ ১০:১৩ অপরাহ্ণ, শনি, ২৮ ডিসেম্বর ১৯

আজাহার ইসলাম: মেঘের রাজ্যে মিষ্টি বাতাসে নীল পরিদের সাথে একটু মজেছে তারা। এ যেন এক ক্লান্ত পথিকের পথ দেখানো নিশ্চিত এক মায়জাল। সবুজের সাথে সাদা-নীলের মিশ্রণে কালবৈশাখী ঝড়ের মায়ার মেলা। দেখেই আলতো আদুরে জড়াতে ছুটে যায় দূরন্ত বালকের দল। তাদের ছুতে গিয়ে বালকেরা ঠান্ডায় আটুসাটু। পরিদের পরিবর্তে পেয়েছে এক সবুজের ছায়া।

এটি অনন্য আহা! কি মনোমুগ্ধুকর দৃশ্য। সত্যি মেঘের রাজ্যে পরিদের সাথে হারিয়ে যেতে মন চায়। আনমনে গেয়ে উঠে, ‘মন চায় মন চায়, যেদিকে চোখ যায়, সেদিকে যাবো হারিয়ে’। হারানোর সপ্ন দেখতে দেখতেই সময় হয়ে এল ফিরে যাওয়ার। ফিরে যেতে চায় না মন। হৃদয়ের আক্ষেপ! মনটা ভিষণ্য কিন্তু কবির ভাষায় ‘যেতে নাহি মন চায়, তবু চলে যেতে হয়।

তখন ঘড়ির কাটায় ঠিক ভোর ৫ টা বেজে ১০ মিনিট। টুংটাং মোবাইল ফোনের এলার্মে ঘুম ভাঙ্গে অভ্যাসগত কারনে এলার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়ি। ঠিক ১৫ মিনিট পর পাপ্পু ভাইয় আজাহার তাড়াতাড়ি উঠ। বাকিদের ও ডাক। সাড়ে ৫ টা বাজে। ঘুমিয়েছিলাম রাঙামাটির ছাদ হিসেবে পরিচিত সাজেকের দু’টি রিসোর্টে প্রতি রুমে ৪/৫ জন করে।

সবাই দ্রুত উঠে রেডি হয়ে নিলাম। উদ্দেশ্য মেঘের বিচরণ দেখতে কংলাক পাহাড়। সকাল ৬ টায় চান্দের গাড়িতে (জীপ) করে মেঘের সাথে সখ্যতা করতে যাবো সবাই। আগের দিন বলা হয়েছিল কেউ গাড়ি মিস করলে তাকে রেখে যাওয়া হবে।

রেডি হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে পড়লাম সবাই। রাস্তায় গাড়ির সামনে সবার সমাগম। উদ্দেশ্য কংলাক পাহাড়। ড্রাইভার আসছে না। সবাই অস্থির কখন যাবো মেঘের রাজ্যে বিচরণ করতে।

এদিকে কেউ একজন লক্ষ্য করলো রাস্তার ধার থেকে মেঘমালা দেখা যাচ্ছে। অনেকে আবার কোনভাবেই বিশ্বাস করছে না। কেউ কেউ কুয়াশা বলে হাসা-হাসি করছে। একেকজন একেক ধরনের যুক্তি দিচ্ছে পক্ষে বিপক্ষে। পাল্টাপাল্টি যুক্তি দিতে দিতেই ড্রাইভার আসলো। তখন ৬ টা বেজে ১৭ মিনিট। এদিকে কারো আর অপেক্ষা সইছে না। উঠে পরলাম গাড়িতে মেঘের সাথে মিতালী করতে।

চান্দের গাড়ি (জীপ) চলল কংলাক পাহাড়ের উদ্যেশ্যে। কংলাক হচ্ছে সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে এই পাহাড়ের চূড়া ভূপৃষ্ট হতে ১ হাজার ৮০০ ফুট সুউচ্চ। কংলাকে যাওয়ার পথে মিজোরাম সীমান্তের বড় বড় পাহাড়, আদিবাসীদের জীবনযাপন, চারদিকে মেঘের আনাগোনা দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

গাড়ি এসে থামলো পাহাড়ের নিচে। বাকি পথ হেঁটে উঠতে হবে। গাড়ি থেকে নেমে পাহাড়ি পথ বেয়ে সবার হাঁটা শুরু হলো। কেউ আবার ভিডিও করছে পাহাড়ি রাস্তা। একপর্যায়ে উঠে পড়লাম কংলাক পাহাড়ের চূড়ায়। যেখান থেকে মেঘমালার ভেসে বেড়ানোর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

কংলাকের চূড়ায় উঠার সাথে সাথেই দৃশ্য উপভোগ করার পাশাপাশি অনেকে সেলফি, ছবি তোলা, ভিডিও করায় মেতে উঠেছে দৃশ্যটিকে ধারণ করতে। মন বলে, ‘আমি যদি পাখি হতাম, তবে মেঘের সাথে উড়ে বেড়াতে পারতাম। সূর্য উঠার সাথে সাথে যেন আরেক অপরূপ দৃশ্য হাজির। সুর্যের আলোয় মেঘমালা যেন নতুন সাজে সুসজ্জিত হয়ে উঠলো। তুলার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘ। পাহাড়ের গায়ে যেন আটকে যাচ্ছে। মেঘে ঢেকে যাচ্ছে পাহাড়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ