মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশিতঃ ৯:১০ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২৫ জুলাই ১৯

নিউজ ডেস্ক: গাজীপুরের টঙ্গীতে নিজের নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ধর্ষক আইনাল মিয়াকে (৩৯) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে রায়ে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুরে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এই রায় দেন।

গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শাহজাহান জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদ নগর (তালতলা) এলাকায় স্ত্রী ও তিন মেয়ে নিয়ে বসবাস করতেন আইনাল। প্রথম স্ত্রী বানু বেগম মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীও আইনালকে ছেড়ে চলে যান। ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল মধ্যরাতে আইনাল তার বড় মেয়েকে ধর্ষণ করেন। একসময় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সাড়ে ৫ মাস পর তার শারীরিক গঠনে পরিবর্তনের বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজরে এলে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে নির্যাতিতা স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।

ওই কিশোরীর নিকটাত্মীয় কেউ না থাকায় প্রতিবেশী রেখা বেগম ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট বাদী হয়ে ধর্ষক বাবা আইনাল মিয়াকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে টঙ্গী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনা জানাজানির পর ব্র্যাকের মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির মো. মনির হোসেন নির্যাতিতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং লিগ্যাল কাউন্সেলিং করেন। তাকে মামলায় সহযোগিতা করার জন্য ব্র্যাকের প্যানেল আইনজীবী নাদিরা বেগমকে নিয়োগ দেন। তিনি ক্লায়েন্টকে কাউন্সেলিং করার মাধ্যমে সাহসী করে তোলেন এবং পি.পি-কে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর আইনাল মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ২ মার্চ চার্জ গঠন করা হয়। ধর্ষণের শিকার কিশোরী আদালতে জবানবন্দি দেয়।

৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এ রায় দেন। এসময় মামলার আসামি আইনাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)  শাহজাহান এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী জাকির উদ্দিন মামলা পরিচালনা করেন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ