‘যুবসমাজকে মাদক থেকে রক্ষায় চাই কঠোর পদক্ষেপ’

প্রকাশিতঃ ১০:০৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ২৯ অক্টোবর ১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: মাদকের নেশা মানুষকে ন্যায়-নীতির পথ থেকে বিচ্যুত করে। পরিবার ও সমাজে যে অশান্তি দেখা যায়, তার মূলেও রয়েছে মাদক ও মাদকাসক্তের মূল ভূমিকা। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে পারিবারিক শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাওয়া, যুবসমাজের বিপথগামী হওয়ার পেছনে মূল কারণ হয়ে রয়েছে মাদক। এটি সকল অপকর্মের প্রধান উৎস। রাজধানীর ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত মাদকমুক্ত সুস্থ জীবন শীর্ষক আলোচনাসভায় এসব তথ্য উঠে আসে।

এশিয়ান টেলিভিশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ড. শহীদ আক্তার হোসাইনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. তরুণ কান্তি শিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি আব্দুর রউফ খান, প্রমেসিস মেডিকেল সার্ভিসেস এর চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম হেলাল এবং ক্যাম্পাস ভিত্তিক মাদকবিরোধী আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলাম রলি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তরুণ কান্তি শিকদার বলেন, সন্তানকে সময় দিতে হবে। অন্যথায় সে সহজেই মাদকের মত খারাপ নেশায় জড়িয়ে যেতে পারে। সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাদকরোধ ও এর কারবারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এ কাজে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহায়তার পরামর্শ দেন তিনি।

বক্তাদের কথায় মাদকের ভয়াবহতা উঠে আসে। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে নানা তথ্য। তারা বলেন, দেশ থেকে মাদক নির্মূল করা কোন অসম্ভব কাজ নয়। দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং দেশের ভবিষ্যত যাদের উপর নির্ভর করছে, সেই যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে কঠোর পদক্ষেপের কোন বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান দেশে মাদকাসক্তদের সংখ্যা কমপক্ষে ৭০ লাখ। এদের মধ্যে ৫০ ভাগই ইয়াবায় আসক্ত। বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মাদকাসক্তদের মধ্যে ৮৪ ভাগ পুরুষ, ১৬ ভাগ নারী। সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী ও শিশু-কিশোররাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ নানাভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আর উচ্চশিক্ষিতের সংখ্যা ১৫ শতাংশ। তবে আরও বেশ কয়েকটি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, অবৈধ মাদকদ্রব্য আমদানির জন্য প্রতি বছর ১০ হাজার কোটিরও বেশী টাকার মুদ্রা বিদেশ পাচার হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ড্রাগ হলো এমন বস্তু যা গ্রহণ করলে ব্যক্তির এক বা একাধিক কার্যকলাপের পরির্তন ঘটায়। একটা ড্রাগের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নির্ভর করে তার রাসায়নিক গঠন বৈশিষ্ট্যের উপর। এই ড্রাগ অপব্যবহারের কারণে রোগী তার রোগের জন্য ওষুধের গুণাগুণ পাওয়ার বদলে হয়ে যায় বিষ। তাই অনেক সময় বিষ স্বল্প মাত্রায় প্রয়োগ করলে হয় ওষুধ, কিন্তু বেশি মাত্রা বা অযথা গ্রহণ করলে হয় বিষাক্ত বা শরীরকে নিস্তেজ করে, মৃত্যু ডেকে আনে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অপব্যবহারের মাধ্যমে মাদকাসক্তির সূচনা হয়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ