রাবিতে আন্দোলন স্থগিত

প্রকাশিতঃ ৮:০৩ অপরাহ্ণ, শনি, ১৯ অক্টোবর ১৯

রাবি প্রতিনিধি: ভর্তি পরীক্ষা থাকায় আগামি ২১ ও ২২ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা তাদের ‘ তিন দফা’ অন্দোলন স্থগিতেের  ঘোষণা দিয়েছে। দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনকে আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেধে দেয় তারা।

আজ শনিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফিরোজ আনামকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ তিন দফা দাবিতে ফের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলে ২৪ তারিখ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে সড়ক থেকে চলে আসে শিক্ষার্থীরা।

এর আগে ১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে হবিবুর রহমান হলের মাঠে অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফিরোজ আনামকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হল-ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিষিদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ফিরোজ আনামকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ডিবি তুলে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা ও দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।

আন্দোলনে অংশ নেয়া অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩ সেশনের শিক্ষার্থী নিশাত আল হাসান সময় জার্নালকে বলেন, আমরা গতকাল থেকে ৫ দফা দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান করছি। আমরা বিভিন্ন সময় প্রক্টর স্যারের আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু বিচার পায় নি। আমরা শিক্ষার্থীরা আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষার জন্য আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্থবায়ন না করা হলে ফের আন্দোলনে যাবে বলেও জানান নিশাত।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, এর শনিবার বেলা এগারটার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে একই দাবিতে মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের মেরে আহত করা ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। প্রায়ই ক্যাম্পাসে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। কিন্তু প্রশাসন এগুলো আটকাতে ব্যর্থ। বারবার দাবি জানানোর পরেও প্রশাসন ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করতে পারেনি।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে চুরি-ছিনতাই করছে, শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে মারছে। শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে জিম্মি। অবিলম্বে প্রশাসনকে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে অবস্থান নেয়।

এদিকে একই দাবিতে বেলা ১২টার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি থেকে নেতাকর্মীরা সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের উৎপাত বেড়েছে দাবি করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্যাম্পাসে প্রবেশে গেইটগুলোকে সিসি টিভি ক্যামরার আওতায় আনার দাবি জানান।

 

একই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন বদরগঞ্জ উপজেলা সমিতি। কর্মসূচি থেকে তারা ফিরোজের চিকিৎসাভার বহনের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি করেন।

এদিকে ফিরোজ আনামকে ছুকিঘাতের ঘটনায় শুক্রবার রাতে বাদি হয়ে দন্ডবিধি ৩৪,৩২৫,৩৪১,৩৯৩ ধারায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ফিরোজ। এতে অজ্ঞাত নামা ৪ জনকে আসামী করা হয়। মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান বলেন, রাতে মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর ইতোমধ্যে সন্দেহজনক ভাবে রুমেল ও রাকেশ নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা বাদ করা হচ্ছে। সম্পৃক্ততা পেলে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে আটকৃতদের পুরোপরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান আব্দুর রহমান।

প্রসঙ্গত, ছুরিকাঘাতের ঘটনা জানা জানি হলে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় রাবির সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবীর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উচ্চ বাক্যে কথা বলেন। এতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে এস আর কে রাজ ও কিশোর কুমার নামের দুই শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবীরের গায়ে হাত তোলেন।

এস আর কে রাজ রাবি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী। কিশোর ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। পরে কিশোরকে তুলে নিয়ে যায় যায় ডিবি। বিষয়টি জানা জানি হলে শিক্ষার্থীরা ফের প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রায় ৩০ মিনিট পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। প্রায় ভোর চারটার দিকে শিক্ষার্থীরা মহসড়ক ছেড়ে দেয়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ