রোহিঙ্গাদের প্রথম দল ভাসানচরে

প্রকাশিতঃ ৬:০২ অপরাহ্ণ, শুক্র, ৪ ডিসেম্বর ২০

সময় জার্নাল ডেস্ক : কক্সবাজারের উখিয়া কলেজে অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে স্থানান্তরের প্রথম ধাপে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গার একটি দল নোয়াখালীর ভাসানচরে পৌঁছেছে। শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে ভাসানচরে পৌঁছে রোহিঙ্গা বহন করা জাহাজগুলো।

রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানানো হয় ভাসানচরে। সেখানে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এর আগে সকাল সোয়া দশটার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় নৌবাহিনীর জেটি থেকে নৌবাহিনীর ছয়টি এবং সেনাবাহিনীর একটি জাহাজে তোলা হয় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

জাহাজের ডেকে বেঞ্চ বসিয়ে সবার বসার ব্যবস্থা হয়। সকাল সোয়া ১০টার পর চট্টগ্রামের বোট ক্লাব, আরআরবি জেটি ও কোস্টগার্ডের জেটি থেকে জাহাজগুলো ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা হয় বলে জানিয়েছেনন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এমকেজেড শামীম।

আর আগে গত বৃস্পতিবার রাতে তাদের রাখা হয় চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা বাংলাদেশ নৌবাহিনী রেডি রেসপন্স বাথ জেটি ও বিএএফ শাহীন কলেজ মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পে।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের উখিয়া কলেজে অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে স্থানান্তরের প্রথম ধাপে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গার একটি দলকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ২০টি বাসে করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি কাজ করছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)।

বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে এনজিওগুলো বিরোধিতা করে আসছিল বলে এতদিন অভিযোগ ওঠে। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সম্প্রতি ২২টি এনজিও নোয়াখালীর হাতিয়ার এই দ্বীপে কাজ শুরু করেছে। এর আগে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে আগেই ভাসানচরে নিয়ে রাখা হয়েছিল।

এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে এনজিও প্রতিনিধিরা ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত আবাসন পরিদর্শনে এসে সরকারের সুপরিকল্পিত আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এদিকে, লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রথম ধাপে রৌহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরবরাহের জন্য ৬৬ টন খাদ্য মজুদ করা হয়েছে।

সূত্র মতে, প্রথম দুই মাস তাদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হবে। এরপর নিজ নিজ বাসস্থানেই তারা রান্না করতে পারবেন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুচিদং এলাকার বাসিন্দা আয়শা বেগম। কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে গত দুই বছর যাবত তিন সন্তান, স্বামীসহ আট সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

কেন ভাসানচরে যাচ্ছেন জানতে চাইলে আয়শা জানান, ভাসানচরে গেলে নাকি আয় রোজগার করা যাবে। সেখানে নাকি বালুখালী ক্যাম্প থেকেও বেশি সুবিধা পাবো। এ জন্য ভাসানচরে যাচ্ছি। ক্যাম্পে এনজিওসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় চলতে হয়। এভাবে আর কতদিন চলা যায়। তাই ভাসানচরে চলে যাচ্ছি।

ভাসানচরে প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থার (স্কাস) চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা জানান, সরকার ও নৌ বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা ২২টি এনজিও এখানে কাজ শুরু করেছি। শুক্রবার যেসব রোহিঙ্গারা ভাসানচরে আসছে তাদের আপ্যায়ন করার জন্য নৌ-বাহিনীসহ দেশের সব ধরনের গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব নিয়েছেন।

ভাসানচরে আসা রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। খাবার, স্বাস্থ্য, শিশু ও নারীদের বিশেষ কোন ব্যবস্থা সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের টেক কেয়ারের জন্যেও সব ধরণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খাবার ও স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা। শিশু ও নারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। নারীদের জন্য সরকারি নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া আমরা এনজিওর পক্ষ থেকে অনেকেই আছি। তারা এখানে নিঃসন্দেহে ভালো থাকবেন।

এদিকে, বুধবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ বলেছে, রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে নেওয়ার যে পরিকল্পনা সরকার করেছে, তার সঙ্গে জাতিসংঘের কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নেই। ভাসানচরে যাওয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গারা যেন সব তথ্য জেনে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় ওই বিবৃতিতে।

সেখানে বলা হয়, “এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে, অথবা শরণার্থীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। স্থানান্তরের সার্বিক কর্মকাণ্ডে সম্পর্কে জাতিসংঘের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও (এইচআরডব্লিউ গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে থেকে ছিল আরও প্রায় চার লাখ। বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে ৩৪টি ক্যাম্পে।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।