লক্ষ্মীপুরে আলোচিত বিএনপি নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী

প্রকাশিতঃ ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১৯ নভেম্বর ১৯

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে এক সময়ের জেলা বিএনপি নেতা ড. আশরাফ সারু এখন রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন নিজেকে। এতে করে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সহ তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে।

অভিযোগ রয়েছে, সারুর ব্যবহৃত বন্দুক দিয়ে স্বানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের তৃনমূলের নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন।কখন তিনি আওয়ামীলীগ করেননি। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার সময় ড. আশরাফের নির্দেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানী করা হয়েছে। বির্তকিত ও সমালোচিত এবং অযোগ্য লোকজনকে ব্যাক্তিস্বার্থে,সংগঠনের দায়িত্বে দিয়েছে।

মাঠপর্যায় গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে তিনি নিজেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রর্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এতে করে বিব্রত নেতাকর্মীরা। দলের নেতাকর্মীরা দূর্দিনে ও আন্দোলন সংগ্রাম, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকাসক্ত ও অন্যদলের কোন নেতাকর্মীদের যেন আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ে না রাখা হয় এমন বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে ড. আশরাফ সারু কথায় কথায় নেতাকর্মীদের নিজের ব্যবহৃত বন্দুক বের করে হুমকি দিচ্ছে।

গত ১১ নভেম্বর আলেকজান্ডার ভাই ভাই কমিউনিটি সেন্টারে পৌরসভা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শেষে রামগতি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন ভিপি হেলালের দিকে বন্দুক তাক করলে দু-পক্ষের মধ্যে দেখা দেয় উত্তেজনা। পরে জেলা আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের হস্তক্ষেপে সে উত্তোজনা বন্ধ হয়।

এর কয়েকদিন আগে চরলরেন্সের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আবুল কাশেম তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকেও বন্দুক বের করে হুমকি দেওয়া সহ সারু বিরুদ্ধে নান অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।কর্মীদের মতামত মূল্যায়ন করে কমিটির নেতা সৃষ্টি করলে যেমন দলের সুনাম বাড়বে, তেমনি দলের মধ্যে ভালো মানের কর্মী তৈরি হবে। এছাড়া যেসব নেতারা মাদকাসক্ত ও টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত তাদের কোনভাবে কমিটিতে না রাখতে আহবান তৃনমূল নেতাকর্মীদের।

এ দিকে ১৯৯৭ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ সামছুল আলম ও আনোয়ার হোসেনকে সাধারন সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির ৫৯তম সদস্য হিসেবে কমিটিতে ছিলেন ড. আশরাফ সারু।

 

ডেকোরেটর ব্যবসায়ী কাশেম জানান, সমাবেশের স্টেজের পাওনা টাকা চাইতে গেলে ড. আশরাফ সারু বন্দুক বের করে গুলি করার হুমকি দেয়। এতে আতংকিত হয়ে পড়ি। বিষয়টি অনেক নেতাকর্মীদের জানিয়েছি। কিন্তু কোন লাভ হয়নি।

চরগাজী ইউপি চেয়ারম্যান তাওহিদুল ও রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রুপেনা বেগম জানান, ড. আশরাফ সারু কখন আওয়ামী লীগ করেননি। তিনি বিএনপির রাজনীতি করতেন। এসব বিষয় নিয়ে কথা বললে আশরাফ সারু নিজের গাড়ি থেকে একটি বন্দুক বের করে নেতাকর্মীদের গুলি করার হুমকি দেয়। প্রায়ই গুলি নিয়ে মানুষকে তাড়ায়। এ ধরনের ঘটনা বিব্রত এবং নিন্দা জানানোর ভাষা নেই।

রামগতি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হেলাল জানান, পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শেষে সারু আমাকে বন্দুক বের করার গুলির হুমকি দেয়। এছাড়া সে কখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনা। এখন কিভাবে সে নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দেয়। সেটা ভাবতে কষ্ট হয়। অনতিবিলম্ভে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবহৃত বন্দুক জব্দ করার দাবী জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে জানতে ড. আশরাফ সারুকে বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিপ করেননি।

সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ জানান, সারু  বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। এখন কিভাবে সে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা সমাবেশে স্টেজে উঠে বসে সেটা আমার জানা নেই। ইতিমধ্যে সে বেশ কয়েকজনকে বন্দুক বের করে হুমকি-ধামকি দেয়ার অভিযোগ আছে। কার বলে তার এত ক্ষমতা সেটা আমার জানা নেই।

এসব বিষয়ে জানতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ড. আশরাফ সারু বিএনপি করেছেন এমন  অভিযোগ রয়েছে। এবং বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী এ ধরনের তথ্যও আমার জানা নেই। তবে সে আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে দাবী করেন তিনি।

সময় জার্নাল/ মো: ইউসুফ

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ