লাগামহীন পেঁয়াজের বাজার

প্রকাশিতঃ ২:৩৯ অপরাহ্ণ, শুক্র, ১৫ নভেম্বর ১৯

নিউজ ডেস্ক: লাগাম ছাড়াই চলছে পেঁয়াজের দাম। কোনো ভাবেই কমছে না। দেশিয় পেঁয়াজের সঙ্গে মিয়ানমার সহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসলেও দাম নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার সকাল পর্যন্তও কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি আমদানিতেও সুখবর পাচ্ছেন না হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়িরা। ফলে ভারতের পেঁয়াজ ছাড়াই দেশের উৎপাদিত ও যৎ সামান্য আমদানি পেঁয়াজেই ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে কম-বেশি। আর এসব কারণে দামের অস্থিরতা নিয়েই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে তাদের।

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়িরা জানান, অভ্যন্তরীণ সংকট দেখিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। এরপর থেকে বাড়তে থাকে ভারতীয় পেঁয়াজের পাশাপাশি দেশিয় পেঁয়াজের দামও। শুক্রবার পর্যন্ত গত দেড় মাসের ব্যবধানে কেজিতে ১৪০ টাকা করে বেড়েছে। বর্তমানে হিলি স্থলবন্দরসহ আশ পাশের হাট-বাজারে পেঁয়াজ প্রতি কেজি প্রকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকায়। আর পাতাসহ দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকার মধ্যে।

হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ি মো. মোবারক হোসেন বলেন, আমরা অনেক ব্যবসায়ি এখন অলস বসে আছি। প্রতিদিনই ভারতের ব্যবসায়িদের সাথে যোগাযোগ করছি। কিন্তু বাংলাদেশে আমদানিতে কোনো সুখবর পাচ্ছি না। বর্তমানে আমরা পেঁয়াজের আমদানি করার চিন্তাটা মাথা থেকে বাদ দিয়েছি। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি বাড়াতে আমাদের সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। না হলে বাজারে পেঁয়াজের দাম অনেক বেড়ে যাবে। শুধু মিয়ানমার থেকে যৎ সামান্য পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার সামাল দেওয়া কোনো ভাবেই সম্ভব নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ি জানান, হিলি স্থলবন্দরের অন্তত ৮-১০ জন ব্যবসায়ি তাদের পুরনো এলসির পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করতে না পারায় কয়েক কোটি টাকা আটকে গেছে। এতে করে ব্যবসায়িরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

হিলি বাজারের খুচরা ব্যবসায়ি মঈনুল হোসেন জানান, কোনো ভাবেই পেঁয়াজের দামের অস্থিরতা কমছে না। কাস্টমারদের সাথে আমাদের প্রায় সময় দাম নিয়ে বচসা হচ্ছে। বলা যায় পেঁয়াজের বাজার এখন পাগলা ঘোড়া হয়ে গেছে। এখনই লাগাম ধরে না টানলে সামনে আরও খারাপ হতে পারে?

স্থানিয় পর্যায়ে কয়েকটি হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে হিলি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিয়ানমারের পেঁয়াজের দাম একই। আর পাতাসহ দেশিয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়।

এদিকে হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা হবিবর রহমান এবং ডুগডুগী বাজারের আজিজ হোসেন জানান, প্রতিদিনই যেভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, তাতে তরকারিতে আর পেঁয়াজ দিয়ে খেতে হবে না। এখনই সরকারকে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ