শঙ্কায় নুসরাতের পরিবার

প্রকাশিতঃ ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২৪ অক্টোবর ১৯

নিউজ ডেস্ক: ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হাত-পা বেঁধে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই রায় শুনে আসামিরা কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়লেও তাদের ভাড়াটে শন্ত্রাসিদের হুমকি-ধামকির ভয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় রয়েছে নুসরাতের পরিবার।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে মামলার ১৬ আসামির উপস্থিতিতে তাদের মৃত্যু দণ্ডের রায় পড়ে শুনানো হয়। এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের ফেনী জেলা কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।

মামলার রায় আসামিদের বিপক্ষে যাওয়ায় নুসরাতের পরিবারে বাতি জ্বালানোর মতো কাউকে রাখা হবে না। মেয়ের মতই পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে জানান মা শিরিন আক্তার।

তিনি আরো বলেন, সিরাজ-উদ-দৌলা জেল থেকে আমার মেয়েকে পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্র করেছে। এখন তো আসামি ১৬ জন। তারা ইচ্ছা করলে আমাদের বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের হুমকি না থাকলেও সতর্ক থাকবে পুলিশ। কেউ নুসরাতের পরিবারের দিকে তাকানোর চেষ্টা করলেও শক্ত হাতে তা দমনে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ বিষয়ে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নুরুন্নবী জানান, নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট রয়েছে জেলা পুলিশ। সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন তিনজন পুলিশ সদস্য। এ নিরাপত্তার বাইরেও নুসরাতের পরিবার যেকোনও বিষয় জানালে পুলিশ সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখার জন্য তৎপর রয়েছে।

মালার আসামিরা হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ওই মাদ্রাসার কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ