শাহাদাত হোসেনের কবিতা ‘ভালো হয়ে গেছি: প্রেক্ষিত কোভিড-১৯’

প্রকাশিতঃ ১১:৩১ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২ এপ্রিল ২০

করোনা তোমার নিয়ন্ত্রণকর্তাকে বলো, আমরা ভালো হয়ে গেছি,
দেখোনা, জুয়ার আসর মদের বার পৃথিবীর আদিম ব্যবসার পসরা সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি সব আজ বন্ধ,
সবাই হাত ধুঁয়ে তোমার ভয়ে ঘরে বসে
সারা পৃথিবীতে তোমার তাণ্ডবে -মৃত্যুর মিছিল দেখছে।

নাস্তিকেরাও আজ আস্তিকদের দলে ভিড়ছে,
যুদ্ধবাজ বিশ্বমোড়লদের মুখে শান্তির বাণী শোনা যাচ্ছে।

করোনা এবার তোমার তাণ্ডবলীলা একটু থামাও -সারা বিশ্ব আজ তোমার নীলদংশনে দংশিত।

তোমার করালগ্রাসে স্নেহময়ী মা পারছেন না আক্রান্ত সন্তানের কপোলে হাত বুলিয়ে
মায়াবী আচঁলে চোখের জল মুছে বুকে জড়িয়ে আবিষ্ট করতে।

শত ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও চিরায়ত বাংলার স্বামী ভক্ত স্ত্রী পারছেনা
সেবা প্রত্যাশী অসুস্থ স্বামীর শয্যা পাশে বসে হাতে হাত রেখে বলতে-
ওগো ভয় পেয়ো না আর ক’টা দিন সুস্হ হয়ে বাড়ি ফিরবে।

মায়ের সান্নিধ্য লাভের আকুল অপেক্ষায় অবুঝ সন্তানের অশ্রুসিক্ত নয়নে,
মা মা শব্দে মায়াবতী জননীর বুকে পৃথিবীর সমস্ত বিষবর্শা এসে বুক ঝাঁঝরা করছে,
ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও স্নেহময়ী মা পারছেনা আক্রান্ত শিশুকে বুকে জড়িয়ে সহমরণে সাথী হতে,
ঘরে যে তার -এক সন্তান ডাকে।

মৃত্যু পরবর্তী অন্তিমযাত্রায় স্বজনের উপস্থিতি আজ কঠিন বাস্তবতা।
হায়! বিধাতা তুমি আজ কোথায়
পৃথিবী কত নিষ্ঠুর!

অলস দুপুরে এখন আর কেউ নিশ্চিন্তে ঘুমোতে যায় না,
পড়ন্ত বিকেলে প্রেয়সীর হাত ধরে প্রেমিক হাঁটে না
কারখানার শ্রমিক কাজে যাচ্ছে না
জীবিকার খোঁজে খেটে খাওয়া শ্রমিক অনিশ্চিত ভবিষ্যতে ক্ষুধার্ত সন্তানের পাশে
মিথ্যে সান্ত্বনায় বুকে রক্ত ক্ষরণ করছে।

করোনা এবার তুমি আমাদের সাথে সমস্বরে বলো,
হে খোদা! সব পাপ ভুলে একবার তোমার রহমতের দৃষ্টি দিয়ে তাকাও।
আমরাতো তোমারই সৃষ্টির সেরা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ