শিক্ষক নিয়োগে অর্থ দাবির অভিযোগ রাবি উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে

প্রকাশিতঃ ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, শনি, ২১ ডিসেম্বর ১৯

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ভাইভার পূর্বে রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া নিয়োগ প্রার্থী নুরুল হুদার স্ত্রীর নিকট টাকা চেয়েছিল। বিষয়টি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানকে জানানোর পরও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। এছাড়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ পাওয়া নূর নূসরাত সুলতানার আবেদনের যোগ্যতা ছিল না দাবি করেছেন নুরুল হুদা।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি মোড়ের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেন। তবে তিনি অভিযোগের কোনো তথ্য প্রমাণ দিতে পারেন নি। তিনি দাবি তার কাছে প্রত্যেটি অভিযোগের তথ্য প্রমাণ রয়েছে। তদন্ত কমিটির নিকট সেটি দেখাতে পারবেন।

লিখিত বক্তব্যে নুরুল হুদা দাবি করেন, সিন্ডিকেটের আগের রাতে ( ১৬ নভেম্বর ২০১৮) জাকারিয়ার টাকা চাওয়া বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের মাধ্যমে তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান, উপাচার্যের স্ত্রী ও তার ভাগনে টুটুলকে অবহিত করেন। কিন্তু উপাচার্য এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয় নি। তবে নুরুল হুদার কোন শিক্ষকের মাধ্যমে উপাচার্যকে অবহিত করছিলেন তা জানায় নি।

লিখিত বক্তব্যে নুরুল হুদা আরও বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ আমার স্ত্রীর সাথে রাবি উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার ফোনালাপ ফাঁসের পরে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো.জাকারিয়া গত ৩ অক্টোবর চাকরি ও ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন।

বিষয়টি গত ১১ অক্টোবর রাবির দুই শিক্ষকের মাধ্যমে উপাচার্যকে জানানো হলে তিনি (উপাচার্য) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয় বলে তাদেরকে জানান। ওই শিক্ষকদের মাধ্যমে উপাচার্যের পক্ষ থেকে তাকে সমঝোতায় বসার প্রস্তাব দিয়ে চুপ থাকতে বলা হয় বলে জানান নুরুল হুদা। তবে কোন দুই শিক্ষকের মাধ্যমে তিনি উপাচার্যকে বিষয়টি জানিয়েছেন তাদের নাম বলেন নি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে (০১৭৩২৬২৫৮০৮) একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
নিয়োগের সাক্ষাৎকারের কিছুদিন আগে আইন বিভাগের সভাপতি আব্দুল হান্নানকে টাকা দেওয়ার ব্যাপারে নুরুল হুদা বলেন, অধ্যাপক আব্দুল হান্নান ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর আমার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ধার নেন।

১৩ নভেম্বর নিয়োগ বোর্ডেও সাক্ষাৎকারের আগের দিন ১২ নভেম্বর তিনি টাকা পরিশোধ করেন। টাকা ধার ও পরিশোধের ব্যাপারটি তিনি ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ নভেম্বর সহ-উপাচার্য জাকারিয়ার ভাগনে ও ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক গাজী তৌহিদুর রহমানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রেরণ করেন।

অবৈধ লেনদেনের মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে নিয়োগ বোর্ড থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল দাবি করে নুরুল হুদা বলেন, আবেদনকারীদের যোগ্যতার অনুসারে আমি এলএল বি (অনার্স) ফলাফলে নিয়োগ প্রাপ্তদের চেয়ে এগিয়ে। নিয়োগ প্রাপ্তদের বনশ্রী রাণী স্নাতকে ৩.৬৪, মো.সালাউদ্দিন সাইমুম: স্নাতকে ৩.৪২, নূর নূসরাত সুতলানার স্নাতকে দ্বিতীয় শ্রেণী ছিল। কিন্তু আমার ছিল ৩.৬৫। পূর্বে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী সালাউদ্দীন সাইমুম ও নূর নূসরাত সুলতানার আবেদনের যোগ্যতা ছিল না বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হুদা আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগের আবেদন ক্ষেত্রে নূর নূসরাত সুলাতানা স্নাতকোত্তরে প্রাপ্ত ৬৩.৩৩% নম্বরকে প্রথম শ্রেণী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন লন্ডনের বিপিপি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। নুরুল হুদা দাবি করেন বিপিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং অনুযায়ী ৬৩.৩৩% নম্বর দ্বিতীয় শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। এবং সেখানে এলএল.এম এ প্রথম সারির ফলাফলকে ডিস্টিংশন বলা হয় যা পেতে একজন শিক্ষার্থীকে ৭০% নম্বর বা তার বেশি পেতে হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এবং রাবির গ্রেডিং পদ্ধতি অনুয়ায়ী ৬৩.৩৩ নম্বর বি-গ্রেড (৩.০০)। নূর নূসরাতের ৬৩.৩৩% নম্বরকে প্রথম শ্রেণী বিবেচনা এবং তার নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশাসনের নিকট ব্যাখ্যা চান। এবং সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

ব্যক্তি স্বার্থের জন্য অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে পারে না জানিয়ে নুরুল হুদা বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবৈধ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকলে হয়তোবা ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হতাম কিন্তু আমি আমার ব্যক্তি স্বার্থের জন্য অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে পারিনা। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের প্রকৃত চিত্র দেশবাসীর নিকট তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তিনি পূবের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা ফিরিয়ে আনা অথবা এমন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান যাতে করে যোগ্যব্যক্তিরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পায়।

অভিযোগের বিষয় জানতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো.জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। (০১৭১০৯৬৮৬৩৮) উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে না পেয়ে জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয় নি।

প্রসঙ্গত,গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেখানে তিনি নুরুল হুদার স্ত্রী সাদিয়ার সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। অধ্যাপক জাকারিয়া সাদিয়াকে বলছেন, ‘‘আচ্ছা মা, একটা কথা বলতো, আমার খুব শুনতে ইচ্ছা যে, এখানে তোমরা কত টাকা দেওয়ার জন্য রেডি আছো?

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ