শিবির আখ্যা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ

প্রকাশিতঃ ৫:২৮ অপরাহ্ণ, সোম, ১৩ মে ১৯

স্টাফ রিপোর্টার : শিবির আখ্যা দেয়া নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদবঞ্চিতরা হামলার শিকার হয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের সদ্য পদপ্রাপ্তরা। এতে ছাত্রলীগের হল কমিটির সাবেক নেতাসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এই ঘটনা ঘটে।

এর আগে ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে ‘বিতর্কিত ও অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে যান পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।

পদবঞ্চিত এসব নেতা-কর্মীরা সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের অনুসারী। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন সদ্য পদপ্রাপ্ত নেতা-কর্মীরা। মধুর ক্যান্টিনে মুখোমুখি অবস্থান নেন পদবঞ্চিত ও সদ্য পদপ্রাপ্তরা।
পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন শুরু করতে গেলে সদ্য পদপ্রাপ্ত নেতা-কর্মীরা মুহুর্মূহ স্লোগান দিলে সংবাদ সম্মেলন শুরু করতে বাধা পায় পদ বঞ্চিতরা। এ সময় পদপ্রাপ্তদের মধ্যে থেকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনকে শিবির বলে আখ্যায়িত করেন। এটা শুনে জাকিরের অনুসারীরা সংবাদ সম্মেলন রেখে দাঁড়িয়ে এই কথার প্রতিবাদ জানান।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনের ব্যানার ছিড়ে ফেললে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে নেতৃত্ব দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান। একপর্যায়ে চেয়ার ছুঁড়ে মারতে থাকে তারা। এতে পদবঞ্চিত ১০ নেতা-কর্মী আহত হন।

ছাত্রলীগের সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক তানভীর ভূঁইয়া শাকিল, ডাকসুর সদস্য ও কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক ও রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি বি এম লিপি আক্তার আহত হন। এ সময় চেয়ারের আঘাতে রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশার মাথা ফেটে যায়। পরে আহতাবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে আরিফুজ্জামান আল ইমরান বলেন, হামলায় আমি অংশ নেয়নি। তবে মধুর ক্যান্টিনে ছিলাম। সেখানে সংবাদ সম্মেলনে হল কমিটির পদ-প্রত্যাশী অতি উৎসাহী জুনিয়ররা হাতাহাতি করেছে। আমরা যারা সিনিয়র ছিলাম তারা গিয়ে সেটা থামিয়েছি।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ