সাংবাদিক লাঞ্জিত, নাঈমুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, রবি, ৬ অক্টোবর ১৯

নিউজ ডেস্ক: দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক রমজান আলীসহ সম্পাদনা বিভাগের কয়েকজন কর্মীকে মারধোরের অভিযোগ উঠেছে পত্রিকার প্রকাশক নাঈমুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতির কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন সাংবাদিক রমজান আলী।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, “গত ৩০ সেপ্টেম্বর নাঈমুল ইসলাম খান আমাকে প্রায় দুই মাস আগে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ফলোআপ করতে বলেন। আমি তখন কিভাবে নিউজটি করবো সেই বিষয়ে নির্দেশনা চাই। এমন সময়ই তিনি সম্পাদনা বিভাগের কর্মীদের মারধর শুরু করেন। এমনকি একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের দাড়ি ধরে টানাটানি করেন।”

রমজান বলেন, “কোনো প্রকার পূর্বাভাস ছাড়াই আমাকে পেছন থেকে মারতে শুরু করেন তিনি। একই সঙ্গে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন, যে ভাষা কোনো সভ্য মানুষ উচ্চারণ করতে পারে না। ঘটনায় আমি হতবিহ্বল হয়ে যাই।”

তিনি অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করেন, “আমি অত্র অফিসে কর্মরত অবস্থায় একাধিক প্রতিবেদককে নাঈমুল ইসলাম খানের হাতে মার খেতে দেখেছি। তার মুখের ভাষা এতটাই অশ্লীল যে এখানে লেখার অযোগ্য।”

“আমি অত্র অফিসে কাজ করার পূর্বেও উনি আরও তিন জন সাংবাদিককে মেরেছেন বলে শুনেছি। তবে নিজেকে অনেক প্রভাবশালী ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দাবি করায় ভয়ে কেউ কখনো তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেনি। অথচ তার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন সিনিয়র থেকে জুনিয়র প্রায় সবাই।”

সাংবাদিক রমজান বলেন, “আমাকে ও অন্যান্য সাংবাদিককে মারধোরের প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজেও আছে। আমি গণমাধ্যমের কর্মীদের সম্মান রক্ষার্থে এবং আমার ওপর হামলার বিচার চাচ্ছি।”

রমজান অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করেন, নাঈমুল ইসলাম কর্তৃক প্রকাশিত দৈনিক আমাদের অর্থনীতি ও আমাদের নতুন সময়, আওয়ার টাইমস, আমাদের সময়ডটকম, আওয়ার ইসলাম, আমাদের কুমিল্লা, আমাদের দেবিদ্বরসহ অন্তত ২২টি পত্রিকা ও অনলাইনের সম্পাদক তিনি। অথচ তিনি এইসব পত্রিকায় কর্মরত কোনো সাংবাদিক বা কর্মকর্তাকে কোনো প্রকার নিয়োগ পত্র দেন না। তার যখন মন চায় কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই জনবল ছাঁটাই করেন।

তিনি আরো জানান, তার অধিকাংশ পত্রিকায় ৮ম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের তথ্য সরকারকে দেয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী ওনার পত্রিকাগুলো সরকারি বিজ্ঞাপন রেটও পায়। তার পত্রিকার বিজ্ঞাপন রেট দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন রেটের সমান। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের অর্থনীতি, আমাদের নতুন সময় ও আওয়ার টাইমে আলাদা কোনো প্রতিবেদক নেই। এক পত্রিকার সাংবাদিক দিয়ে সকল প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। এখানে কর্মরতদের কেউ কখনো ওয়েজ বোর্ডে বেতন পায়নি। এমনকি এখানে যারা কাজ করেন তাদের বেশিরভাগের বেতনই ১০ হাজারের কম। অনেকে ৫ হাজার টাকাও বেতন পান। আবার যারা জ্যেষ্ঠ তাদের বেতন ২০ হাজারের নিচে।

আমার প্রত্যাশা, আমাদের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আমার ওপর হামলা ও সাংবাদিকদের সম্মান রক্ষার্থে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

স্ত্রী নাসিমা খান মন্টি সম্পাদিত এবং নাঈমুল ইসলাম খান প্রকাশিত ‘দৈনিক আমাদের অর্থনীতি’ পত্রিকায় রমজান আলী দীর্ঘ এক বছর নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সদস্য।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ