সাংবাদিক হাজি মামার সেই ডাক আর শুনবো না

প্রকাশিতঃ ১২:০৫ অপরাহ্ণ, শনি, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০

মাজহারুল মান্নান ( রংপুর ব্যুরোচিফ, যমুনা টেলিভিশন) :

রংপুরের অতি পরিচিত নাম, অতি পরিচিত জন সাংবাদিক হাজি মারুফ। পরিচয়ের শুরু থেকেই তাকে মামা বলে ডাকতাম। মামা সহ বহু স্পটে সাংবাদিকতার জন্য গভমেন্ট করেছিলাম। এর বাইরে যখন যেখানে যেভাবেই দেখা হয়েছে। তখনই সালাম বিনিময় হয়েছে। মামা বলে ডাকাডাকি হয়েছে। চা খাওয়া হয়েছে ।

আমাকে গভীরভাবে কাছে নিতেন, বলতেন মামা এগিয়ে যান। মোবাইলে কথা হলেও একই কথাই বলতেন। তিনি গেল বছর রিপোর্টার্স ক্লাবের নির্বাচনের আগে আমার অফিসে এসেছিলেন। খালার দোকানে বসে প্রায় আধাঘন্টা আমরা কথা বলেছিলাম নানা বিষয় নিয়ে। চা খাওয়ার পর তার সেই প্রিয় বাইকটি নিয়ে চলে গেছেন। বাইক চালানোর সেই চিরচেনা স্টাইল সেই চিরচেনা রূপে।

এইতো সেদিনও গনেশপুর এলাকায় একটি আইসিটি নেটওয়ার্ক নিয়ে অভিযান চালিয়েছিল র‌্যাব এবং পুলিশ। সেখানেও মামার সাথে দেখা। কাছে ডাকলেন। চায়ের দোকানে নিয়ে গেলেন। চা খাওয়ালেন। সে কী গভীর মমতা। তার সেই স্নেহভরা ডাক, চাহনি আজ খুবই মনে পড়ছে।

মামাকে যখন ধর্মদাস এলাকায় দুর্বৃত্তরা আঘাত করলো। তিনি আল্লাহর রহমতে বেঁচে গিয়েছিলেন। যদিও অনেক দিন শয্যাশায়ী ছিলেন। মুভমেন্ট করতে পারেননি। রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রকাশনা রিপোর্টার্স ভয়েস-৪ এর সম্পাদকীয় পাতায় তার আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম। তদন্ত করে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছিলাম। এ নিয়ে মামার সাথে আমার বারবার কথা হয়েছে। উনি যেখানেই দেখা পেয়েছেন। সেখানে এ বিষয়টি তুলে এনেছিলেন এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ছিলেন।

আজ সে কৃতজ্ঞ মুখটা আমার কাছে নেই। এটা ভাবতেই পারছিনা। কেন যেন একে একে সব প্রিয় মুখ হারিয়ে ফেলছি। দুঃখের দ্রাঘিমা, কষ্টের পরিসীমা এতটাই এতোটাই এতোটাই গভীর যে তা বলে বোঝানো যাবে না।

তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। যার বাবার রক্তে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ। তিনি একজন বুনিয়াদি পরিবারের সন্তান। যে পরিবারের সাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল নিবিড় পরিচয়। যে পরিবার থেকে উঠে এসেছে সফল জনপ্রতিনিধি।

আজ হাজী মামা নেই। ভাবতেই পারি না, আর ভাবতেও চাইনা। শুধু চাই আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।

( সাংবাদিক হাজি মারুফ মামা ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ২ টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিসিইউ তে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ইন্না-লিল্লাহি ও ইন্না ইলাহি রাজিউন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তিনি ২ সন্তানের জনক ছিলেন। আজ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বাদ যোহর গুড়াতি পাড়া জামে মসজিদে জানাযার নামাজ শেষে মুন্সি পাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। হাজি মারুফ দৈনিক পরিবেশ, দৈনিক বগুড়া, দৈনিক সকালের খবর পত্রিকায় সিনিয়র রিপোর্টার ও সাপ্তাহিক চলমান বার্তায় নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন।)

 

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ