সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি যুবককে নিয়ে আতঙ্কে চিকিৎসকরা

প্রকাশিতঃ ২:১৮ অপরাহ্ণ, রবি, ২২ মার্চ ২০

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী আতঙ্কের মধ্যে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ভারত থেকে আসা এক তরুণকে নিয়ে নার্স-চিকিৎসকরা ভয়ে আছেন।

বুধবার রাতে ভর্তি হওয়ার পর এখনও কোনো চিকিৎসক তাকে দেখতে যাননি। নার্স-ব্রাদাররা তাকে দূর থেকে স্ট্রেচার করে খাবার দিচ্ছেন। ২১ বছর বয়সী এই তরুণের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার দাতনিখালী গ্রামে।

তিনি বলেন, আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষবর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। বুধবার যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসেন।

বাড়ি যাওয়ার আগে আমি স্বপ্রণোদিত হয়ে হাসপাতালে আসি। আমি নিজে থেকেই দুই সপ্তাহের জন্য আলাদা থাকতে চেয়েছি। আমি যেহেতু বিদেশ থেকে এসেছি, সেহেতু দুই সপ্তাহ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকব। তাতে যদি কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয় তাহলে চিকিৎসা নেব। সমস্যা না হলে বাড়িতে ফিরে যাব।

বাড়িতে তার বাবা-মা ও কিশোরী বোন রয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছি কিনা তা নিশ্চিত না হয়ে বাড়ি গিয়ে পরিবার ও সমাজকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না। তবে তিনি কোনো রকম অসুস্থতা অনুভব করছেন না বলে জানিয়েছেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক নাজিয়া মুজাহিদ বলেন, আমি তাকে এখনও দেখিনি। তবে সার্বক্ষণিক খবরাখবর নিচ্ছি। এই তরুণ সুস্থ আছেন। প্রয়োজন হলে অবশ্যই দেখব।

তবে বেদনার বিষয় হল হাসপাতালের চিকিৎসকসহ পুরো টিম তাকে সেবা দিচ্ছে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে। তাদের নেই কোনো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা। হাসপাতালে গিয়ে ওই তরুণকে নিয়ে চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা গেছে।

সদর হাসপাতালের ব্রাদার নারদচন্দ্র ব্রহ্ম বলেন, ওই তরুণকে আমরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে খাবার সরবরাহ করছি। তবে সবাই অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাস অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন।

সময় জার্নাল/সালেহ আহমেদ

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ