সিএমএল : রক্তের এক ধরনের ক্যান্সার

প্রকাশিতঃ ৩:২৮ অপরাহ্ণ, শনি, ২১ ডিসেম্বর ১৯

সিএমএল হলো রক্তের একধরণের ক্যান্সার বা এক প্রকারের লিউকেমিয়া। এর পুরো নাম ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া।

লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার হলেও এটা অন্যসব লিউকেমিয়ার তুলনায় অনেকটাই ভাল। কারণ এটি সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ক্ষেত্র বিশেষে নিরাময় যোগ্যও বটে। সিএমএল এর অধিকাংশ রোগীরাই নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে থাকলে এবং নিয়ম করে ওষুধ খেলে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে।

সেটা কেন হয় তা বলা কঠিন। রেডিয়েশন থেকে হয়। আরো অন্যান্য ট্রিগারিং এজেন্টও আছে।

যা বলছিলাম ৯ নং ক্রোমজোমে এ থাকে ABL1 জিন। ২২ শে থাকে BCR জিন। ABL1 একটি ক্যান্সার উদ্দীপক জিন। কিন্তু সে স্বাভাবিক অবস্থায় সুপ্ত থাকে। BCR এর সান্নিধ্যে এসে ABL1 সক্রিয় হয়ে উঠে। BCR-ABL ফিউশন প্রোটিন শ্বেত রক্ত কোষের বিভাজনকে উদ্দীপিত করে। ফলে শুরু হয় অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন।

সিএমএল এর চিকিৎসা আবিষ্কার ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষ যে একদিন ক্যান্সার রোগটিকে মামুলি ব্যাপার বানিয়ে ফেলতে পারে তার একটি নমুনা দেখা যায় এই সিএমএল এর চিকিৎসা আবিষ্কারের ঘটনার ভেতর দিয়ে। ইমাটিনিব নামক এক ধরণের ওষুধ এই BCR-ABL ফিউশন জিনকে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে পারে। বিশেষ জিনকে লক্ষ্য করে এরা কাজ করতে পারে বলে একে বলা হয় টারগেটেড থেরাপি। বাংলায় করলে দাঁড়ায় লক্ষ্যভেদী চিকিৎসা। একসময় সিএমএল এর চিকিৎসায় বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট ছিল মূল চিকিৎসা। টারগেটেড থেরাপি আসার পর সিএমএল এর চিকিৎসায় বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন প্রায় নির্বাসিত হয়েছে। ইমাটিনিবের পর একই গোত্রের আরো কিছু ওষুধ বাজারে এসেছে।

ইমাটিনিবের আবিষ্কার পুরো ক্যান্সার চিকিৎসায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। ক্যান্সার যুদ্ধে নতুন অস্ত্র হিসেবে একে চিহ্নিত করে টাইমস ম্যাগাজিনের এক আর্টিকেলে। একে তখন নাম দেওয়া হয় “ম্যাজিক বুলেট।”

ইমাটিনিব প্রথম যখন বাংলাদেশে আসে তখন সিএমএলএর দৈনিক চিকিৎসা ব্যয় ছিল গড়ে ২ হাজার টাকার মত। এখন বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলো দেশেই এই ওষুধ তৈরি করে যার একেকটির দাম পড়ে ২৫০–৩৫০ টাকা। অর্থাৎ দৈনিক খরচ তিনশ থেকে চারশ টাকার ভেতর।

এই একটি মুখে খাওয়ার ওষুধেই রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে এবং রোগী সুস্থ মানু্ষের মত সাধারণ জীবনযাপন করতে পারে।

আমাদের দেশে রোগীরা যখন জানতে পারে তার সিএমএল বা ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া হয়েছে তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা দিশেহারা হয়ে উঠে।

পুরো ট্রিটমেন্ট প্রক্রিয়া বুঝিয়ে বলার পরও আরো ভাল কিছু পাবার আশায় যাদের সামর্থ আছে বিদেশে পাড়ি দেন। সমস্যা হয় তাদের ক্ষেত্রে যারা সামর্থের হিসাবটা করতে পারেননা। বিদেশ টিদেশ ঘুরে আসার পর যখন দেখেন তাদেরকে যে দৈনিক ইমাটিনিব বা এ জাতীয় ওষুধ খাবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সেই ওষুধটিও কিনবার সামর্থটি হারায় তখন আর কিছু করার থাকেনা৷ বলারও থাকেনা।

লেখক : ডা. গুলজার হোসেন উজ্জল (লেখকের ফেসবুক টাইম লাইন থেকে নেয়া)

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ