সিলেটে লবণের কেজি ১০০ টাকা! ব্যবসায়ীকে জরিমানা

প্রকাশিতঃ ৩:০৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১৯ নভেম্বর ১৯

সময় জার্নাল ডেস্ক: সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লবণের মূল্যবৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয়কারী খুচরা ও পাইকারি বাজারে ভিড় বেড়ে যায়। এমন সুযোগে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী কয়েক গুণ বেশি দামে লবণ বিক্রি শুরু করেন। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকার লবণ ৪০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রির ঘটনাও ঘটে।

এমন খবরে সিলেট জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রাত নয়টার দিকে মাঠে নামেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিলেট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমন্ত ব্যানার্জি ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন। অভিযানে সহযোগিতা করে সিলেট নগর পুলিশ। অতিরিক্ত দামে লবণসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি ও মূল্য তালিকা না টাঙানোর অপরাধে সাতটি দোকানের মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে লবণ পরিবহন করা তিনটি ঠেলাগাড়িতে থাকা প্রায় ৬০০ কেজি লবণের মালিক পাওয়া না যাওয়ায় জব্দ করা হয়।

তবে আজ সকালে নগরের বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় দোকানেই লবণ নেই। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এক নিমিষেই লবণ বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে এখন সিলেটের খুচরা বাজারে লবণের সংকট রয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, লবণের দাম বাড়েনি। হঠাৎ করে লবণের চাহিদা বাড়ায় এই মুহূর্তে দোকানে লবণ নেই। লবণের অর্ডার দেয়া হয়েছে দুপুর নাগাদ দোকানে পাওয়া যাবে। লবণের দাম বাড়েনি বরং ফ্রেশ লবণের বস্তাপ্রতি ১৫ টাকা দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

নগরের নবাব রোড এলাকার আল সাফা ফ্যামেলি শপ, ফাতেমা স্টোর, ওসমানী মেডিকেল কলেজ রোডের লিবার্টি সুপার স্টোরে গিয়ে দেখা গেছে দোকানে লবণ নেই। তবে এসব দোকানের মালিকরা জানিয়েছেন, লবণের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে।

ফাতেমা স্টোরের ব্যবস্থাপক গোলাম জিলানী বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় আমাদের দোকানে দুই বস্তা লবণ ছিল। সবই বিক্রি হয়ে গেছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। তবে আমরা লবণের গায়ের মূল্যে লবণ বিক্রি করেছি। এখন দোকানে লবণ নেই। নতুন করে লবণের অর্ডার দেয়া হয়েছে। দুপুর নাগাদ লবণ পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, লবণের দাম বাড়েনি বরং ফ্রেশ লবণের দাম বস্তাপ্রতি ১৫ টাকা কমেছে বলে কোম্পানি থেকে জানানো হয়েছে।

আল সাফা ফ্যামেলি শপের মালিক জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, দেশের বাজারে লবণের কোনো সংকট নেই। অথচ সিলেটে সোমবার সন্ধ্যা-রাতে এই লবণ নিয়ে ঘটে গেছে তুঘলকি কাণ্ড। মুহূর্তের মধ্যে আমার দোকানে থাকা তিন-চার বস্ত লবণ বিক্রি হয়ে গেছে। এখন আর কোনো লবণ নেই। নতুন করে লবণের অর্ডার দিয়েছি। বিকেল নাগাদ লবণ পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একদল ব্যবসায়ী অসৎ উদ্দেশ্যে গুজব ছড়িয়ে শুধু সিলেট নগর নয়, বিভাগজুড়েই বেশি দামে লবণ বিক্রি করে ফায়দা লোটে।

সিলেটের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বলছে, সিলেটের সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে ফায়দা লুটছে একটি চক্র। তবে গতকাল সোমবার রাতেই এই চক্রকে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা, সচেতনতামূলক মাইকিংসহ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে লবণ পরিস্থিতি নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায়ও গুজব রোধে মাঠে কাজ করছে প্রশাসন।

ব্যবসায়ীরা জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লবণের দাম বেড়ে যাচ্ছে- মর্মে খবর পেয়ে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন সিলেট নগরের ভোগ্যপণ্যের দোকানগুলোতে। বাড়তি চাপে নিমিষেই শেষ হয়ে যায় নগরীর বিভিন্ন দোকানের লবণের মজুত। আবার অনেক ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রির জন্য লবণ মজুত করে রাখেন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ