সীমান্তে যৌথ টহল দিবে বিজিবি ও মিয়ানমার পুলিশ

প্রকাশিতঃ ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, বুধ, ৮ জানুয়ারি ২০

সময় জর্নাল ডেস্ক : সীমান্ত সুরক্ষা ও যথাযথ আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে যৌথ টহল চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমার পুলিশ ফোর্স (এমপিএফ)।

রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সিনিয়র পর্যায়ের সপ্তম সীমান্ত সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) ‘যৌথ আলোচনার দলিল’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জাননো হয়।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, বিজিবি ও এমপিএফের সিনিয়র পর্যায়ের পাঁচদিনের সীমান্ত সম্মেলন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়েছে। এতে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ছিলেন। অপরদিকে মিয়ানমারের চীফ অব পুলিশ জেনারেল স্টাফ, পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো থানের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ মাদক, বিশেষ করে ইয়াবা পাচারের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মানব পাচার, অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম ও মাদক পাচার বন্ধে বিওপি কিংবা ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রতিনিয়ত যোগাযোগের ওপর জোর দেন।

মিয়ানমার সীমান্তে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কথা উল্লেখ করে মহাপরিচালক এমপিএফের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় পুঁতে রাখা আইইডি বা স্থল মাইন অপসারণের জন্য অনুরোধ জানান।

মিয়ানমারের পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো থান অবৈধ মাদক পাচার ও মাদক ব্যবসা প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, মাদক ব্যবসা তাদের সমাজেও একই প্রভাব ফেলেছে। তিনি মাদক পাচার ঠেকাতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সীমান্ত সম্মেলনে আলোচনার পর বিজিবি ও এমপিএফ কিছু বিষয়ে একমত হয়। এর মধ্যে রয়েছে- মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য বিশেষ করে ইয়াবা পাচার রোধে বাংলাদেশ শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখবে। অন্যদিকে মিয়ানমার তাদের জাতীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি অনুযায়ী কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। উভয়পক্ষই আন্তঃদেশীয় অপরাধ, অস্ত্র ও অন্যান্য পণ্য চোরাচালান, মানব পাচার, এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।

উভয় দেশই অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম কিংবা প্রবেশ ও সীমানা লঙ্ঘন রোধ এবং পূর্ব অনুমোদন ছাড়া সীমানারেখার উভয়পাশের ১৫০ ফুট বা ৫০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের সীমানা লঙ্ঘন না করার বিষয়ে একমত হয়েছে। সীমান্তে গোলাগুলি বা গুলি চালানোর ঘটনা ঘটলে দ্রুত একে অপরকে জানাতে সম্মত হয়েছে। দুই পক্ষই নিজ দেশের নাগরিকদের অজ্ঞতাবশত সীমান্তরেখা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানায়।

সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিজিবি ও এমপিএফের অষ্টম সিনিয়র পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন চলতি বছরের মে বা জুন মাসে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হবে।

আরইউ/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ