সুনামগঞ্জে ৮২টি বাঁধের কাজ শুরু হয়নি

প্রকাশিতঃ ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, সোম, ২০ জানুয়ারি ২০

সেলিম আহমদ তালুকদার,সুনামগঞ্জ : জেলার ৪টি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয়নি। ফলে শঙ্কায় হাওর পাড়ের কৃষকেরা।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার শনির হাওর, হালির হাওর, মাটিয়ান হাওর, মিনি পাকনার হাওরসহ ৪টি হাওরে এখনো শুরু হয়নি ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, দুটি উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৩৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হলেও কাজ শুরু করতে পেরেছে মাত্র ৫৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি।

জানা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার ৬৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মধ্যে কাজ শুরু করেছে মাত্র ২৮টি ও তাহিরপুর উপজেলার ৭০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মধ্যে কাজ শুরু করেছে মাত্র ১৫টি । অথচ কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী গেলবারের ১৫ ডিসেম্বর থেকে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কথা ছিলো। কিন্তু ১ মাস ৫ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও এখনো কাজ শুরু করেনি এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ২ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ফসল আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করেছে অধিদফতর। আজ পর্যন্ত ১ লাখ ৯২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।

হাওর পাড়ের স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাওরের পানি এখন অনেকটা নেমে গেছে। জমিতে ধানের চারা রোপনের কাজ ও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখনো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু না করায় একমাত্র বোরো ফসল নিয়ে উদ্বিগ্ন।

তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের কৃষক মোবাশ্বির মিয়া বলেন, জমিতে ধানের চারা রোপনের কাজ শেষ পর্যায়ে এখনো বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। মাঘ মাস চলে যাচ্ছে ফালগুন (ফাগুন) মাস থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হলে বাঁধ নির্মাণের কাজ ব্যহত হবে। দ্রুত বাঁধের কাজ শুরু না করলে বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়বে।

খলাহাটি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাহিরপুর উপজেলার শনিহাওর, মাটিয়ান হাওর, মহালিয়ার হাওরসহ বেশ কয়েটি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে এক ছটাক মাটিও পাড়েনি।

বড়দল গ্রামের আলকু মিয়া বলেন, এখনো অনেক বাঁধ মাটি কাটার উপযোগি কিন্তু লোকজন পিআইসি কমিটি নিয়ে বসে আছে বাঁধের কাজ শুরু করেনি। এটি হাওর এলাকার মানুষের জন্য খুব খারাপ খবর।

বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ইমতিয়াজ আহমদ তানজিম বলে সে স্কুল বাদ দিয়ে জমিতে কাজ করছে। তাদের লেখাপড়া ভরনপোষণ সব কিছু ধানের উপর নির্ভরশীল। গেলবার এমন সময় বাধনির্মাণ শুরু হলেও চলতি বছর এখন পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।

সাবেক ইউপি সদস্য সামায়ুন কবীর বলেন, মাটিয়ান হাওরের পাঁচনালিয়া, মেশিনবাড়ি, আলমখালী, চর্তুভুজের বাঁধ, টেকাটুকিয়া নদীর বাঁধসহ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয়নি। এজন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি দায়ী।

সাঞ্জব উস্তার বলেন, গেলবার তিনি মাটিয়ান হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ করেছিলেন। গেলবার এমন সময় মাটিয়ান হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর নির্মাণ কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছিলো কিন্তু এবার হাওরের বাঁধে একছটাক মাটিও পড়েনি।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোঃ বোরহান উদ্দিন বলেন, এবার হাওরের পানি দেরিতে নেমেছে তাই কাজও দেরিতে শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইগরামপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর, সাহগঞ্জ, নয়ানগর, সাহেবনগর, মারালাসহ বেশ কিছু গ্রামের কৃষকরা এখনো জমিতে ধান রোপণ করতে পারেনি।

অন্যদিকে শনির হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ লালুগোয়ালা, নান্টুখালী, ঝালোখালীসহ বেশি কিছু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় হাওরের পানি না নামায় এখনো বাঁধের কাজ শুরু করা যায়নি।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ঢাকায় বসে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের টাইম লাইন নির্ধারণ করা আর মাঠে এসে কৃষকের সঙ্গে কথা বলে টাইমলাইন নির্ধারণ করা এক জিনিস নয়। এবার হাওরের পানি দেরিতে নেমেছে তাই বাঁধের কাজ এখনো শুরু করা যায়নি। তবে পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধের কাজ শুরু করা হবে।

তাহিরপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রাকিব হাসান বলেন, হাওরের পানি দেরিতে নামায় এখনো বাঁধের কাজ শুরু করা যায়নি। পানি নেমে যাওয়ার পর কাজ শুরু করা হবে।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ