স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামীকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ৬:৩০ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১২ নভেম্বর ১৯

নিউজ ডেস্ক: যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূকে অমানষিক নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী জহির ইসলামকে মধ্যরাতে উপজেলার মহামায়া এলাকা থেকে আটক করে নানা তদবিরের এক পর্যায়ে থানায় বসে শালিশ বৈঠক করে রাতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

গত শুক্রবার ফেনীর ছাগলনাইয়ায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গরীবুল্লাহ শাহ হোসেন বাদশার শ্যালক।

ভুক্তভোগীর মা মামলার অভিযোগে জানান, উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের উত্তর সতর গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে জহির ইসলামের সাথে এক বছর আগে তার মেয়ের বিয়ে দেয়।কিন্তু বিয়ের পর থেকেই জহির বিভিন্ন অজুহাতে তার মেয়ের উপর চালাতো অমানবিক নির্যাতন।

এ নিয়ে একাধিকবার ঘরোয়া ভাবে মিমাংসা হলেও কিছু মানতে চায় না জামাই জহিরসহ বাবা,মা। এরইমধ্যেই গৃহবধূটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।তাই মেয়ের শুশুর পক্ষের লোকজন অনুমতি না ছাড়া বাচ্চা কেন নিয়েছে বলে মেয়ের উপর আরো নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক জানান অধিক নির্যাতনের ফলে পেটেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে এবং ডি এন জি করে মৃত বাচ্চা প্রসব করা হয়। এরপর সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরলে কিছুদিন যেতেই ফের নতুন অজুহাত ধরে চাকরীস্থল থেকে বিদেশে ট্রেনিং যেতে টাকা লাগবে।

এই টাকার জন্য আবারো মেয়ের জামাই জহির ইসলাম,শশুর জয়নাল আবেদিন সহ শাশড়ি মিলে মেয়েকে বেধড়ক মারধর করলে তারা থানায় অভিযোগ দেয়। পরে পুলিশ অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার গভীর রাতে জহির ইসলামকে আটক করে। নির্যাতিতার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে চাপ দিয়ে মধ্যরাতে বৈঠকে মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেলে থানায় আসেন মহামায়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গরীবুল্লাহশাহ,একই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনউদ্দিন মাস্টার,ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আলম মজুমদার, ছাগলনাইয়া পৌরসভার কমিশনার হাবিবুর রহমান,শিমুল চৌধুরী,উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি দিদার সহ একাধিক ব্যাক্তি শালিশে বসে।

এসময় বৈঠকে আসামীকে ছেড়ে দেয়াসহ আগামী ২৩ নভেম্বর পূনরায় বসার সিদ্ধান্ত হয়।সে মোতাবেক রাতেই আসামীকে ছাড়িয়ে নেয়ে যায় তাদের লোকজন।

এব্যাপারে ছাগলনাইয়া থানার পরিদর্শক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,মেয়েটির পরিবার নির্যাতনের অভিযোগ দিলে শুক্রবার রাতে জহির ইসলাম নামে একজন কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করি। পরে শনিবার রাতে বৈঠকে সিদ্ধান্তক্রমে তাকে আগামী ২৩ নভেম্বর পূনরায় বসার সিদ্ধান্ত হয়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ