স্বামীর নির্যাতনে নদী সাঁতরে মধ্যরাতে থানায় গৃহবধু

প্রকাশিতঃ ৩:২৯ অপরাহ্ণ, শনি, ১৮ জানুয়ারি ২০

হিলি প্রতিনিধি: রাত ১২টা। চারিদিকে মাঘের কন-কনে শীত। মানুষ যখন লেপ-কম্বল মুড়িয়ে গভীর ঘুমে বিভর ঠিক তখনই এক নারী ভিজা শরীরে কাঁপতে-কাঁপতে থানায় এসে হাজির। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক দিনাজপুরের বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান।

ঘটনা জিজ্ঞাসা করতেই ওই নারী জানান, স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে কন-কনে শীত উপেক্ষা করে এই মধ্যরাতে নদী সাঁতরে থানায় ছুটে এসেছেন নিজের জীবন বাঁচাতে।

জানাগেছে, ৬ বছর আগে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বড় বাইলশিরা গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে কামরুন্নাহার রিনার সঙ্গে বিয়ে হয় প্রস্তমপুর গ্রামের রায়হান কবীরের সাথে। এখন তাদের সংসারে ৪ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। স্বামী রায়হান কবীর স্ত্রী রিনাকে প্রায় মারধরসহ নানা রকম নির্যাতন করে আসছিলো। গতকাল বৃহস্পতিবার লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করলে স্বামীর বাড়ি থেকে রাত ১২টার সময় কন-কনে শীতের মধ্যে শাখা যমুনা নদী সাঁতরে বিরামপুর থানায় পালিয়ে আসে স্ত্রী কামরুন্নাহার রিনা।

থানার ওসি মনিরুজ্জামান তাৎক্ষণিক নারী পুলিশের কাছ থেকে শুকনো কাপড় ও কম্বল নিয়ে কামরুন্নাহার রিনাকে শীতের প্রকপ থেকে রক্ষা করেন। রিনার কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে রাতেই পুলিশ পাঠিয়ে স্বামী রায়হান কবিরকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে এবং কামরুন্নাহার রিনাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

এ ব্যাপারে বিকেলে থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, স্বামী রায়হান কবিরকে আটক করে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। নির্যাতিতা রিনা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ