হরিনাকুন্ডুতে অবৈধ ইটভাটা, পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

প্রকাশিতঃ ৪:৫০ অপরাহ্ণ, সোম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডুতে ১৭ টি ইটভাটা, যার মধ্যে প্রায় ১৫টি অবৈধ। এই সব ভাটায় প্রতিদিন পুড়ছে হাজার হাজার মন কাঠ। আবাসিক পরিবেশ দূষণসহ ফসলী জমিতে গড়ে ওঠা ভাটাসমূহে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।

অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্সহীন ডজন খানেক ভাটা প্রায় দেড় বছর যাবৎ চলে আসছে। সরকারের নীতিমালা লঙ্ঘন করে লোকালয়ে ও কৃষিজমিতে গড়ে উঠেছে ভাটাগুলো। এসব কারণে স্থানীয় কৃষকদের ফসল ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে।

বিধিমালায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ইং অনুযায়ী,আবাসিক এলাকা ও কৃষিজমির এক কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপন নিষিদ্ধ। যেখানে ১২০ ফিট গাথুনি চিমনী থাকার কথা সেখানে নিয়মিনীতির তোয়াক্কা না করে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ ফিট টিনের ড্রাম চিমনীর মাধ্যমে ধোয়া উড়িয়ে পরিবেশের বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে।

এছাড়াও ইটের সঠিক মাপ থাকার কথা ১০-৫-৩ ইঞ্চি, সেখানে ৮ থেকে ৯ ইঞ্চির বেশি পাওয়া যায় না।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় ১৭টি ভাটার বেশির ভাগ ইটভাটা জনবসতি এলাকা এবং কৃষিজমির পাশে গড়ে উঠেছে। এই সব ভাটার মালিকের বিরুদ্ধে সরকারের ভ্যাট ও ট্যাক্স না দেওয়ার ও অভিযোগ রয়েছে।

শ্রমিকরা জানান, এক একটি ভাটায় প্রতিদিন কাঠ পুড়ানো হয় প্রায় ৩শ থেকে ৪শ মন। সব কটি ভাটায় কাঠ পুড়ানো হয় প্রায় ৬হাজার মন।

ভাটাগুলোর পাশে রয়েছে পান ক্ষেত, কলা গাছের বাগান, কফিক্ষেত, মটরক্ষেত, বেগুনক্ষেত, ধানক্ষেত ইত্যাদি। আর ১০০ থেকে ১৫০ গজের মধ্যে রয়েছে জনবসতি।

স্থানীয় বসতিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি সরকারী অনুমোদন ছাড়াই লোকালয় ও আবাদি জমির পাশে ইটভাটা স্থাপন করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

ইটভাটার মালিকরা বলেন, ১৬ই ডিসেম্বর, ২৬শে মাচ, ২১শে ফেব্ররোয়ারী সহ বিভিন্ন কর্মসূচীর চাঁদাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেই তারা এসব ইটভাটা চালাছেন।

হরিনাকুন্ডু, ভাই ভাই ব্রিকস, জেসমিন ও মামা ভাগ্নে ব্রিকস ইটভাটার মালিকদের কাছে ঝিনাইদহ কে ভ্যাট-ট্যাক্স-পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখতে চাইলে বলেন, আমি গত তিন বছর থেকে (০৭-০২-২০০২ইং) পর্যন্ত টিনের ড্রাম চিমনী (৫০-৬০ফিট) দিয়ে ইটভাটার ব্যবসা চালিয়ে আসছি।

কৃষকরা জানান, কৃষিজমির পাশে এইসব ইটভাটা স্থাপন করায় তাদের ফসলের ক্ষতি হয়। ইটভাটার মালিকরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা প্রতিবাদ করতেও সাহস পায় না।

কৃষকদের অভিযোগ সঠিক বলে উল্লেখ করে উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, ফসলি জমির পাশে ইটভাটা স্থাপন করায় ফসলের উৎপাদন কম হয়। ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে এইসব বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিৎ বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ