হাওড়ে বাঁধের কাজ ফাঁকি দেয়ার সুযোগ নেই: অতিরিক্ত সচিব

প্রকাশিতঃ ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, শনি, ২৫ জানুয়ারি ২০

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ রোকন উদ-দৌলা বলেছেন, আমি এই প্রথম হাওড় বেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জে এসেছি। আমি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। এ জেলায় ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের জন্য পাউবোর বরাদ্দের ৫ ভাগের একভাগ বরাদ্দ দিয়েছে। এবাধ সঠিক ভাবে নির্মাণ না হলে কৃষকের ক্ষতি হবে। তাই সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে বাঁধ নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে।

এবার অনিয়ম রুখতে মাটি হিসেব করে বিল দেয়া হবে। ২০১৭ সালে বন্যায় ফসল ডুবি হওয়ায় অনেকে বিপদে পড়ে ছিলেন। সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি সরকার দেখতে চায় না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এখন জবাবদিহিতা বেড়েছে। বাঁধের কাজে ফাঁকি দেয়ার সুযোগ আর নেই।

শনিবার দুপুর ১২ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাবিটা নীতিমালা প্রকল্প গঠিত পিআইসি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত ডিজি মোহাম্মদ আলী বলেছেন, হাওরের পানি দেরিতে নামায় এবছর বাঁধ নির্মাণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। টাকার জন্য বাঁধ নির্মাণের কাজ হচ্ছে না এটি মেনে নেওয়া হবে না। টাকা আমরা দেবো যেখান থেকে পারি সেখান থেকে দেবো বাঁধের কাজ বন্ধ থাকবে না কাজ চলবে।

এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশরী মোঃ সাবিবুর রহমান বাঁধ নির্মাণের প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, চলতি বছর সদর উপজেলায় ২৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৪ কি:মি: ফসল রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। উপজেলার ২৭টি পিআইসির মধ্যে ২১ টির কাজ চলমান রয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৫ কোটি ১৪ লাখ ৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০ কি:মি: ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। উপজেলার ২৬টি পিআইসির মধ্যে ২৬ টির কাজ চলমান রয়েছে।

বাধ নির্মাণ কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, ধর্মপাশা উপজেলায় ১৫৯ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৩০ কোটি ৯৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৬২ কি:মি: ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। উপজেলার ১৫৯ টি পিআইসির কাজ চলমান রয়েছে। তাহিরপুর উপজেলায় ৭০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ৭৪ কি:মি: ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। উপজেলার ৭০টি পিআইসির মধ্যে ৪০ টির কাজ চলমান রয়েছে। জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৮ কোটি ৫০ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬৩ কি:মি: ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। উপজেলার ৬৯টি পিআইসির মধ্যে ৫৬ টির কাজ চলমান রয়েছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৯ কোটি ৪৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫০ কি:মি: ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। উপজেলার ৫০টি পিআইসির মধ্যে ৪৯ টির কাজ চলমান রয়েছে। দিরাই উপজেলায় ৯৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ১৯ কোটি ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৮৯ কিমি ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। উপজেলার ৯৭টি পিআইসির মধ্যে ৯৭ টির কাজ চলমান রয়েছে। শাল্লা উপজেলায় ১৩৭ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ২৪ কোটি ১৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯৭ কি:মি: ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। উপজেলার ১৩৭ টি পিআইসির মধ্যে ১২৪ টির কাজ চলমান রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমাসহ স্থানীয় গণমাধ্যমরা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ